
নাজমুল ইসলাম হৃদয়, বাহুবল প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের বাহুবলে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হান্নান এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে গ্রেপ্তারের পর বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন তারা গ্রেপ্তার এড়িয়ে এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। সম্প্রতি বাহুবল মডেল থানায় ওসি মো. রুহুল আমিন তালুকদার যোগদানের পর তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে মামলা হলেও দীর্ঘদিন তারা গ্রেপ্তার হননি। এতে স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তিন নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সেই ধারণার পরিবর্তন হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তারা মিয়া বাহুবলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি একসময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত তিন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে। বিশেষ করে ওসি মো. রুহুল আমিন তালুকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অভিযান ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় থানা পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান—এমন বার্তা বাস্তবে কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। প্রভাবশালী হলেও অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কি না, তা বিবেচনা না করে মামলার এজাহার, তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাহুবল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাহুবল মডেল থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও দৃঢ় হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























