ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চুনারুঘাটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও দূর্নীতিবাজ ডেপুটি রেঞ্জার আশিক’র এলাকায় বসবাস নিয়ে ক্ষোভ Logo মাধবপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার টাকার জন্য হত্যা Logo নেত্রকোণায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার Logo সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পদ্ম গোখরা ও দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত Logo মাধবপুরে বসতঘরে ঢুকে দখলচেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ Logo বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন Logo মেলান্দহে ইয়াবাসহ স্বেচ্ছাসেবক নেতা গ্রেপ্তার Logo লাখাইয়ে বুল্লা সিংহ গ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত Logo বাবার স্মৃতি বয়ে বেড়ানো দেড় বছরের সুমাইয়া, বাকরুদ্ধ অনুষ্ঠানকক্ষ: সরকারি কর্মকর্তাদের ফ্যাসিবাদ পুনর্জন্ম না দেওয়ার তাগিদ Logo সততার অনন্য নজির: সরকারি কোষাগারে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন লাখাইয়ের ইউএনও

মাধবপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার টাকার জন্য হত্যা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে তাহমিনা বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা না দেওয়ায় স্বামী ও তার স্বজনরা তাহমিনাকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

নিহত তাহমিনা বেগম উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের ওসমান মিয়ার মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে বাঘাসুরা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে তাহির মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।

নিহতের ভাই আলমগীর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাহমিনার শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জরুরিভাবে সেখানে যেতে বলা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি বোনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

আলমগীরের দাবি, বিদেশ যাওয়ার জন্য কিছুদিন ধরে তাহির মিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাহমিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ বিদেশে যাওয়ার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে তাহির মিয়া ও তার কয়েকজন স্বজন বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও দূর্নীতিবাজ ডেপুটি রেঞ্জার আশিক’র এলাকায় বসবাস নিয়ে ক্ষোভ

error:

মাধবপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার টাকার জন্য হত্যা

আপডেট সময় ০৩:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে তাহমিনা বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা না দেওয়ায় স্বামী ও তার স্বজনরা তাহমিনাকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

নিহত তাহমিনা বেগম উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের ওসমান মিয়ার মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে বাঘাসুরা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে তাহির মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।

নিহতের ভাই আলমগীর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাহমিনার শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জরুরিভাবে সেখানে যেতে বলা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি বোনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

আলমগীরের দাবি, বিদেশ যাওয়ার জন্য কিছুদিন ধরে তাহির মিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাহমিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ বিদেশে যাওয়ার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে তাহির মিয়া ও তার কয়েকজন স্বজন বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।”