ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, চোটে নেই মুশফিক Logo মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গলে বিজিবির অভিযান, দেড় লাখ টাকার মাদক ও পণ্য জব্দ Logo ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা Logo হাইমচরের উত্তর আলগীতে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা Logo মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গলে বিজিবির অভিযান, দেড় লাখ টাকার মাদক ও পণ্য জব্দ Logo মাধবপুরে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার মামলায় আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড Logo আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ, লাখাইয়ের ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার Logo হাইমচরে ১৫১ ধারায় তিনজন গ্রেপ্তার Logo তেঁতুলিয়ায় বাড়ছে শীতের আমেজ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৪ ডিগ্রি Logo পাওয়ার প্লেতে বিশ্বরেকর্ড, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ ভারতের

এমসি কলেজে ধর্ষণ: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস

সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও ভিকটিমের শনাক্তকরণ না থাকলেও কয়েকজনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

রায় ঘোষণার আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় কয়েকজন আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নন এবং রাজনৈতিক কারণে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক তরুণী তার স্বামীর সঙ্গে শাহপরান মাজার থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কয়েকজন যুবকের কবলে পড়েন। পরে তাদের জিম্মি করে কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত চলাকালে আসামিদের কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক আসামির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, চোটে নেই মুশফিক

error:

এমসি কলেজে ধর্ষণ: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস

আপডেট সময় ০২:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও ভিকটিমের শনাক্তকরণ না থাকলেও কয়েকজনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

রায় ঘোষণার আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় কয়েকজন আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নন এবং রাজনৈতিক কারণে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক তরুণী তার স্বামীর সঙ্গে শাহপরান মাজার থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কয়েকজন যুবকের কবলে পড়েন। পরে তাদের জিম্মি করে কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত চলাকালে আসামিদের কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক আসামির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।