
নিজস্ব প্রতিবেদক:
“তেমন ভালো হচ্ছে না, ঠিকমতো পড়তে পারছি না”—খুব সহজভাবেই কথাগুলো বলছিল বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কিশন কুল। বয়সে ছোট হলেও তার আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা ও স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরার সাহস মুগ্ধ করার মতো।
বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান কিশন বর্তমানে জগদীশপুর জে.সি. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। পরিবারে এক বোন ও দুই ভাই। বাবা-মা দুজনেই চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সীমিত আয়ের সংসারে প্রতিদিন সংগ্রাম করেই এগিয়ে চলেছে তাদের জীবন।
পরীক্ষা কেমন হচ্ছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে কিশনের সরল জবাব, “তেমন ভালো হচ্ছে না, ঠিকমতো পড়তে পারছি না।” এই একটি বাক্যই যেন চা বাগানের হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। মেধা ও স্বপ্ন থাকলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সহায়তা, অনুকূল পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে তারা পিছিয়ে পড়ছে।
চা বাগান এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এই চিত্র বদলে যেতে পারে। নিয়মিত শিক্ষা সহায়তা, বৃত্তি, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ, ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ, আধুনিক পাঠাগার, দক্ষ শিক্ষকের তত্ত্বাবধান এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে কিশনের মতো অসংখ্য শিক্ষার্থী তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।
একটি শিশুর স্বপ্ন শুধু তার নিজের নয়, তা একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি জাতির সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। কিশনের চোখে যে স্বপ্ন জ্বলছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন রাষ্ট্র, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ। সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে চা বাগানের এই শিশুদের হাত ধরেই লেখা হতে পারে বাংলাদেশের সাফল্যের নতুন অধ্যায়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















