
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
আষাঢ়ের শুরুতেই বর্ষার পানিতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার নিচু এলাকাগুলো। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার ১ নম্বর লাখাই ইউনিয়নের শিবপুরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন। চারদিকে পানি জমে গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবপুর, স্বজনগ্রামসহ আশপাশের নিচু এলাকার অভ্যন্তরীণ ও প্রধান সড়কগুলো বর্ষার শুরুতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল সম্ভব হলেও বর্ষা এলেই এসব গ্রামের মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। হাট-বাজার, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কাজে উপজেলা সদরে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং অসুস্থ রোগীরা। একটি নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত নৌকা ভাড়া গুনতে হওয়ায় সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপও বেড়েছে।
শিবপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। একটি টেকসই সড়ক বা স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষার কয়েক মাস নৌকা ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার কোনো বিকল্প থাকে না।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, শিবপুরসহ হাওরাঞ্চলের গ্রামগুলোর দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট নিরসনে গ্রামীণ সড়ক উঁচু করা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ জরুরি। স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বর্ষায় লাখাইয়ের এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























