ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৯ Logo মাধবপুরে ক্ষুদে ডাক্তারদের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo মাধবপুরে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার Logo মাধবপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান সিনেটে জয়ী আবদুল এল-সায়েদ, হতে যাচ্ছেন প্রথম মুসলিম সিনেটর Logo চা শ্রমিকদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকারে চাঁন্দপুরে নিপেন পাল প্যানেলের মতবিনিময় Logo মাধবপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদানে মেতে উঠলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo জামালপুরে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন Logo মাধবপুরে তিন বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে মিলল মহব্বত আলীর দেহাবশেষ, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

মাঠ যাচাই ছাড়া অনলাইন দেখেই তালিকা: লাখাইয়ে প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হাজারো প্রকৃত কৃষক

লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষক, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং একই পরিবারের একাধিক সচ্ছল সদস্যের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই না করা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এ বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যাদের কৃষিজমি নেই বা খুবই সামান্য জমি রয়েছে, এমন অনেকের নাম তালিকায় থাকলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বহু কৃষক বাদ পড়েছেন। কোনো কোনো পরিবার থেকে চার থেকে পাঁচজন সদস্যও প্রণোদনার তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রণোদনার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের তিন কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাকিব এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, পুরো কার্যক্রমটি অনলাইন আবেদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, অনলাইনে আবেদন করার সময় অনেকেই ক্ষতির পরিমাণ বেশি দেখিয়েছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন যাচাই না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কৃষক বাদ পড়তে পারেন বলেও তারা স্বীকার করেন।

অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, কিছু প্রকৃত কৃষক তালিকার বাইরে থেকে যেতে পারেন। তবে পরবর্তী ধাপে তাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।

কৃষি কর্মকর্তার এ বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, যদি মাঠ পর্যায়ে তথ্য যাচাই করা হয়ে থাকে, তাহলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটল।

এদিকে প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের জমি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা কোনো সহায়তা পাননি। তারা দ্রুত পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিতর্কিত তালিকা পুনর্বিবেচনা করে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রস্তুত করা হোক।

জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৯

error:

মাঠ যাচাই ছাড়া অনলাইন দেখেই তালিকা: লাখাইয়ে প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হাজারো প্রকৃত কৃষক

আপডেট সময় ১২:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষক, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং একই পরিবারের একাধিক সচ্ছল সদস্যের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই না করা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এ বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যাদের কৃষিজমি নেই বা খুবই সামান্য জমি রয়েছে, এমন অনেকের নাম তালিকায় থাকলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বহু কৃষক বাদ পড়েছেন। কোনো কোনো পরিবার থেকে চার থেকে পাঁচজন সদস্যও প্রণোদনার তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রণোদনার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের তিন কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাকিব এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, পুরো কার্যক্রমটি অনলাইন আবেদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, অনলাইনে আবেদন করার সময় অনেকেই ক্ষতির পরিমাণ বেশি দেখিয়েছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন যাচাই না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কৃষক বাদ পড়তে পারেন বলেও তারা স্বীকার করেন।

অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, কিছু প্রকৃত কৃষক তালিকার বাইরে থেকে যেতে পারেন। তবে পরবর্তী ধাপে তাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।

কৃষি কর্মকর্তার এ বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, যদি মাঠ পর্যায়ে তথ্য যাচাই করা হয়ে থাকে, তাহলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটল।

এদিকে প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের জমি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা কোনো সহায়তা পাননি। তারা দ্রুত পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিতর্কিত তালিকা পুনর্বিবেচনা করে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রস্তুত করা হোক।