ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আজ ৪ এপ্রিল, ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস Logo মাধবপুরে এমপি ফয়সলের বাসভবনে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল Logo মাধবপুরে প্রাইভেট ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ, ৭৫ টাকার ইনজেকশনে দাবি ২৫০০ টাকা! Logo রিশাত ইসলামের মৃত্যুতে চৌমুহনীতে দোয়া মাহফিল ও ত্রাণ বিতরণ Logo তেলিয়াপাড়ায় ভাঙাচোরা সড়ক, মন্ত্রীর সফরে জোড়াতালি মেরামত Logo যমুনা শিল্প পার্কে সবুজায়ন: পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে প্রশংসা Logo মনতলায় ট্রেন দুর্ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক Logo ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের Logo মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, ১২ ঘণ্টা বন্ধ সিলেট রেল যোগাযোগ Logo মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনা: ২ লাখ লিটার ডিজেলের ২০-৩০% ক্ষতি, রেল যোগাযোগ বন্ধ

আজ ৪ এপ্রিল, ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ):

আজ ৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উর্ধ্বতন ২৭ জন সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ এবং যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণ করা হয়। সেই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণকে ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে ভাগ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী পিস্তলের গুলি ছুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। এখান থেকেই মুক্তিবাহিনী গঠন, যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপিত হয়।

তৎকালীন বৈঠকে কর্ণেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী, লে. কর্ণেল এম.এ রব, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর কে.এম শফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশাররফসহ সামরিক ও বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। পাশাপাশি ‘জেড ফোর্স’, ‘এস ফোর্স’ ও ‘কে ফোর্স’ নামে তিনটি ব্রিগেড গঠন করা হয়।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম অস্থায়ী সেনা সদর হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও গড়ে ওঠে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হতো।

বর্তমানে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃতিসৌধ এলাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও দর্শনীয় স্পটে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমায়।

যদিও দিবসটি সরকারি ভাবে পালন করা হয় না, তবুও প্রতি বছর ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এ বছরও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ বিন কাশেম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তেলিয়াপাড়ার একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতে এ স্থানকে আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ ৪ এপ্রিল, ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

error:

আজ ৪ এপ্রিল, ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস

আপডেট সময় ১০:০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ):

আজ ৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উর্ধ্বতন ২৭ জন সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ এবং যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণ করা হয়। সেই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণকে ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে ভাগ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী পিস্তলের গুলি ছুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। এখান থেকেই মুক্তিবাহিনী গঠন, যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপিত হয়।

তৎকালীন বৈঠকে কর্ণেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী, লে. কর্ণেল এম.এ রব, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর কে.এম শফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশাররফসহ সামরিক ও বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। পাশাপাশি ‘জেড ফোর্স’, ‘এস ফোর্স’ ও ‘কে ফোর্স’ নামে তিনটি ব্রিগেড গঠন করা হয়।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম অস্থায়ী সেনা সদর হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও গড়ে ওঠে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হতো।

বর্তমানে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃতিসৌধ এলাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও দর্শনীয় স্পটে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমায়।

যদিও দিবসটি সরকারি ভাবে পালন করা হয় না, তবুও প্রতি বছর ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এ বছরও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ বিন কাশেম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তেলিয়াপাড়ার একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতে এ স্থানকে আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।