
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে একাধিক মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সফরকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত তেলিয়াপাড়া চা বাগানের প্রধান সড়কে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তেলিয়াপাড়া পুরাতন মহাসড়ক থেকে চা বাগানের ভেতরে অবস্থিত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কের পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা চলাচলের জন্য মারাত্মক দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিন চা বাগানের শ্রমিকসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা এই সড়ক ব্যবহার করে স্মৃতিসৌধ ও বাগান এলাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু খারাপ রাস্তার কারণে তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আপাতত অস্থায়ীভাবে সড়কের গর্তগুলো ইট ও খোয়া ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের শ্রমিকরা ভাঙাচোরা অংশে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এলাকাবাসীর মতে, এটি কেবল সাময়িক সমাধান।
তেলিয়াপাড়া চা বাগানের সাবেক ইইপি সদস্য যোগেন্দ্র সাঁওতাল বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ও পর্যটন গুরুত্বসম্পন্ন সড়ক। একবার নির্মাণের পর আর কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান।
তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকায় এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হবে।
প্রতি বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে এই সড়কে অস্থায়ী মেরামত করা হলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে কিছুদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় রাস্তা।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নবী বলেন, মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জরুরি ভিত্তিতে কিছু মেরামত কাজ করা হচ্ছে। সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ইউপি সদস্য সাইমন মর্মু বলেন, তেলিয়াপাড়া চা বাগানের এই সড়কটি শুধু একটি সাধারণ রাস্তা নয়, এটি ইতিহাস ও পর্যটনের সঙ্গে জড়িত। টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কার করা হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
এলাকাবাসীর আশা, মন্ত্রীদের আগমন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান এনে দেবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 














