ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র দুই গ্রাম, আহত ২২ জন Logo মাধবপুরে ট্রাক্টরের চাপায় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo রেমা-কালেঙ্গা বনে ট্রাক্টরসহ গাছ আটক, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে Logo শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা নিয়ে সভা Logo বুধবার সরকারি দলের সংসদীয় সভা, এমপিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ Logo ৫ অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসর Logo ভারতে গ্রেপ্তার হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুত দেশে আনা হবে: আইজিপি Logo মাধবপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদিতে আবাসিক ভবনে মিসাইলের আঘাত, বাংলাদেশিসহ নিহত ২ Logo লাখাইয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

তেলিয়াপাড়া চা বাগান যেন মাদকের খনি

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক সময় গৌরবের প্রতীক ছিল তেলিয়াপাড়া চা বাগান। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এই বাগানের ঐতিহাসিক বাংলোতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ২৭ জন বীর সেনা কর্মকর্তার বৈঠক—যেখান থেকে স্বাধীনতার নীলনকশা তৈরি হয়। কিন্তু সেই তেলিয়াপাড়া আজ যেন মাদক ব্যবসার আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এক সময়ের মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার এখন মাদকের খনি।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এই বাগানটির চিত্র গত দেড় দশকে ভয়াবহভাবে পাল্টে গেছে। স্থানীয় কিছু অসাধু চা বাগান কর্মকর্তা, প্রভাবশালী নেতা ও বেপরোয়া যুবকদের আশ্রয়ে বাগানে ঢুকে পড়ে মাদক ব্যবসা। এখন প্রায় প্রতিটি লাইনে গড়ে উঠেছে মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শুরু হয় এই সর্বনাশ। প্রথমে কয়েকজন তরুণ গোপনে চোলাই মদ তৈরি করতে শুরু করে। এরপর গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে। এখন বাগানের প্রতিটি অলিগলিতে পড়ে থাকে ফেনসিডিলের খালি বোতল।

পুরনো শ্রমিক বিশু ভোমিজ বলেন,

> “একসময় সন্ধ্যায় আমরা গান গাইতাম, গল্প করতাম। এখন সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় মোটরসাইকেলের ভিড়—সবাই আসে মাদক কিনতে।”

সম্প্রতি পুলিশের তৎপরতা কিছুটা বাড়লেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি। গত ৭ অক্টোবর বিকেলে হরষপুর তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ খায়রুল বশরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি চোলাই মদসহ ছোটন পান তাতী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে।

সাবেক ইউপি সদস্য যোগেন সাওতাল বলেন,

> “তেলিয়াপাড়া শুধু একটি চা বাগান নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। তাই এখানকার মাদক দমন জাতীয় দায়িত্ব। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক গডফাদারদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

বর্তমান ইউপি সদস্য সাইমন মর্মু বলেন,

> “বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ইতিহাসের গৌরব হারিয়ে যাবে।”

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার দেওয়ান বাহা উদ্দিন লিটন জানান,

> “বাগান থেকে মাদক নির্মূল করতে আমরা শ্রমিকদের সচেতন করছি। বাইরের লোকজনই মূলত এই ব্যবসায় জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন,

> “চা বাগান থেকে মাদক দূর করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য পেলেই পুলিশ একযোগে অভিযান চালায়।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র দুই গ্রাম, আহত ২২ জন

error:

তেলিয়াপাড়া চা বাগান যেন মাদকের খনি

আপডেট সময় ০৯:৫৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক সময় গৌরবের প্রতীক ছিল তেলিয়াপাড়া চা বাগান। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এই বাগানের ঐতিহাসিক বাংলোতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ২৭ জন বীর সেনা কর্মকর্তার বৈঠক—যেখান থেকে স্বাধীনতার নীলনকশা তৈরি হয়। কিন্তু সেই তেলিয়াপাড়া আজ যেন মাদক ব্যবসার আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এক সময়ের মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার এখন মাদকের খনি।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এই বাগানটির চিত্র গত দেড় দশকে ভয়াবহভাবে পাল্টে গেছে। স্থানীয় কিছু অসাধু চা বাগান কর্মকর্তা, প্রভাবশালী নেতা ও বেপরোয়া যুবকদের আশ্রয়ে বাগানে ঢুকে পড়ে মাদক ব্যবসা। এখন প্রায় প্রতিটি লাইনে গড়ে উঠেছে মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শুরু হয় এই সর্বনাশ। প্রথমে কয়েকজন তরুণ গোপনে চোলাই মদ তৈরি করতে শুরু করে। এরপর গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে। এখন বাগানের প্রতিটি অলিগলিতে পড়ে থাকে ফেনসিডিলের খালি বোতল।

পুরনো শ্রমিক বিশু ভোমিজ বলেন,

> “একসময় সন্ধ্যায় আমরা গান গাইতাম, গল্প করতাম। এখন সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় মোটরসাইকেলের ভিড়—সবাই আসে মাদক কিনতে।”

সম্প্রতি পুলিশের তৎপরতা কিছুটা বাড়লেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি। গত ৭ অক্টোবর বিকেলে হরষপুর তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ খায়রুল বশরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি চোলাই মদসহ ছোটন পান তাতী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে।

সাবেক ইউপি সদস্য যোগেন সাওতাল বলেন,

> “তেলিয়াপাড়া শুধু একটি চা বাগান নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। তাই এখানকার মাদক দমন জাতীয় দায়িত্ব। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক গডফাদারদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

বর্তমান ইউপি সদস্য সাইমন মর্মু বলেন,

> “বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ইতিহাসের গৌরব হারিয়ে যাবে।”

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার দেওয়ান বাহা উদ্দিন লিটন জানান,

> “বাগান থেকে মাদক নির্মূল করতে আমরা শ্রমিকদের সচেতন করছি। বাইরের লোকজনই মূলত এই ব্যবসায় জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন,

> “চা বাগান থেকে মাদক দূর করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য পেলেই পুলিশ একযোগে অভিযান চালায়।”