ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালে বেড-জনবল সংকট, ফ্লোরে গাদাগাদি করে চিকিৎসা Logo লাখাইয়ে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী আহত, ট্রাক্টরসহ দুই যান জব্দ Logo নোয়াপাড়ায় মাসব্যাপী শিশুকিশোর আনন্দ মেলার উদ্বোধন Logo ইউপি উন্নয়ন প্রকল্পে ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ Logo আবাবিল সোসাইটির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo মাধবপুরে গুমুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট Logo নাসিরনগরে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ উদ্ধার, স্বজনদের আহাজারি Logo সায়হাম গ্রুপ পরিদর্শনে মার্কিন প্রতিনিধিদল Logo মাধবপুরের মাদক ব্যবসায়ী শায়েস্তাগঞ্জে ৫৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার Logo আলগী বাজারে ঝুলন্ত বিদ্যুৎ তার, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে

মাধবপুরের বুল্লা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি—ডিলারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের ক্ষোভ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বুল্লা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন সার ডিলারের বিরুদ্ধে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্যাশ মেমো দিয়ে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির কথা থাকলেও এসব নিয়মকে উপেক্ষা করে প্রতিটি বস্তায় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কৃষকদের দাবি—ডিলাররা ক্যাশ মেমোতে সরকার নির্ধারিত দাম লিখে দিলেও পেছনে আলাদা করে ৪০০–৪৫০ টাকা বাড়তি আদায় করা হয়। শুধু তাই নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ কিটনাশকও জোর করে কেনার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিটনাশক না নিলে অতিরিক্ত ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সারের চাহিদা বেশি থাকায় ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে বাধ্য হয়েই উচ্চ দামে সার কিনতে হচ্ছে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে খুচরা ডিলার থাকলেও বড় ডিলারদের আধিপত্যে খুচরা বিক্রেতারাও সমস্যায় পড়েছেন। এতে কৃষিকাজের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নানা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন কৃষকেরা।

বুল্লা গ্রামের কৃষক আদম খা বলেন, “সরকারি দামে ইউরিয়া সারের বস্তা ১৩৫০ টাকা। কিন্তু বুল্লা বাজারের ‘মেসার্স ফায়েজ ট্রেডার্স’ ১৭৫০ টাকা নিচ্ছে। বস্তাপ্রতি ৪০০–৪৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এতে চাষাবাদ করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

আরেক কৃষক হারুন মিয়া বলেন, “মৌসুমের শুরুতেই কেজি প্রতি ৪–৫ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ আদৌ সামলানো যাচ্ছে না। এভাবে চললে কৃষিকাজ করা দায় হয়ে পড়বে।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কৃষকদের অভিযোগ ও উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—ডিলারদের সিন্ডিকেট ভেঙে সার বিক্রি যেন সরকারি নিয়মেই হয়, যাতে ক্ষুদ্র কৃষকেরা স্বাভাবিক দামে কৃষিপণ্য উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালে বেড-জনবল সংকট, ফ্লোরে গাদাগাদি করে চিকিৎসা

error:

মাধবপুরের বুল্লা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি—ডিলারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৪:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বুল্লা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন সার ডিলারের বিরুদ্ধে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্যাশ মেমো দিয়ে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির কথা থাকলেও এসব নিয়মকে উপেক্ষা করে প্রতিটি বস্তায় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কৃষকদের দাবি—ডিলাররা ক্যাশ মেমোতে সরকার নির্ধারিত দাম লিখে দিলেও পেছনে আলাদা করে ৪০০–৪৫০ টাকা বাড়তি আদায় করা হয়। শুধু তাই নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ কিটনাশকও জোর করে কেনার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিটনাশক না নিলে অতিরিক্ত ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সারের চাহিদা বেশি থাকায় ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে বাধ্য হয়েই উচ্চ দামে সার কিনতে হচ্ছে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে খুচরা ডিলার থাকলেও বড় ডিলারদের আধিপত্যে খুচরা বিক্রেতারাও সমস্যায় পড়েছেন। এতে কৃষিকাজের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নানা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন কৃষকেরা।

বুল্লা গ্রামের কৃষক আদম খা বলেন, “সরকারি দামে ইউরিয়া সারের বস্তা ১৩৫০ টাকা। কিন্তু বুল্লা বাজারের ‘মেসার্স ফায়েজ ট্রেডার্স’ ১৭৫০ টাকা নিচ্ছে। বস্তাপ্রতি ৪০০–৪৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এতে চাষাবাদ করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

আরেক কৃষক হারুন মিয়া বলেন, “মৌসুমের শুরুতেই কেজি প্রতি ৪–৫ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ আদৌ সামলানো যাচ্ছে না। এভাবে চললে কৃষিকাজ করা দায় হয়ে পড়বে।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কৃষকদের অভিযোগ ও উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—ডিলারদের সিন্ডিকেট ভেঙে সার বিক্রি যেন সরকারি নিয়মেই হয়, যাতে ক্ষুদ্র কৃষকেরা স্বাভাবিক দামে কৃষিপণ্য উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।