ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

কাজে আসছে না তিন কোটি টাকার ব্রীজ

বাংলার খবর ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজ দুই বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। দুই পাশে সংযোগমাটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত দশ হাজার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ছড়া নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রীজটির দুই পাশের মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে যায়। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ব্রীজের পাশের ছড়ায় পানি জমে থাকায় পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বাগানের শ্রমিক নির্মলা দেবী বলেন, “দুই বছর ধরে এই ভাঙা ব্রিজের কারণে আমরা প্রচণ্ড কষ্টে আছি। বৃষ্টি নামলে ছড়া পার হতে ভয় লাগে, অনেক সময় পিছলে পড়ে যাই।” শ্রমিক সুনিতা তেপা বলেন, “এত টাকা খরচ করে ব্রিজটা বানানো হলো, কিন্তু এখন সেটি মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে আছে।”

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক কমল সরকার জানান, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডিকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।”

এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “শিশুরা প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে স্কুলে যায়। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “ব্রীজের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ চলমান রয়েছে।” তবে জানা গেছে, ২০২২ সালের প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প ভেঙে পড়ার পরও ঠিকাদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অবহেলায় সেতুটি এখন প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পথে। এতে শ্রমিক ও বাসিন্দাদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো যদি জনগণের কাজে না আসে, তবে তা অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: চলাচল অনুপযোগী সুরমা চা বাগানের ভাঙা ব্রিজ — দুই বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

কাজে আসছে না তিন কোটি টাকার ব্রীজ

আপডেট সময় ০২:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজ দুই বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। দুই পাশে সংযোগমাটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত দশ হাজার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ছড়া নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রীজটির দুই পাশের মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে যায়। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ব্রীজের পাশের ছড়ায় পানি জমে থাকায় পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বাগানের শ্রমিক নির্মলা দেবী বলেন, “দুই বছর ধরে এই ভাঙা ব্রিজের কারণে আমরা প্রচণ্ড কষ্টে আছি। বৃষ্টি নামলে ছড়া পার হতে ভয় লাগে, অনেক সময় পিছলে পড়ে যাই।” শ্রমিক সুনিতা তেপা বলেন, “এত টাকা খরচ করে ব্রিজটা বানানো হলো, কিন্তু এখন সেটি মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে আছে।”

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক কমল সরকার জানান, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডিকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।”

এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “শিশুরা প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে স্কুলে যায়। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “ব্রীজের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ চলমান রয়েছে।” তবে জানা গেছে, ২০২২ সালের প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প ভেঙে পড়ার পরও ঠিকাদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অবহেলায় সেতুটি এখন প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পথে। এতে শ্রমিক ও বাসিন্দাদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো যদি জনগণের কাজে না আসে, তবে তা অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: চলাচল অনুপযোগী সুরমা চা বাগানের ভাঙা ব্রিজ — দুই বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে।