ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বিনামূল্যে ৩০৩ রোগীর চোখের অপারেশন Logo মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত নয়: ইসি আনোয়ারুল Logo চিকিৎসক ছাড়াই চলছে নোয়াপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র Logo শীতের আগেই লাখাইয়ে নির্বিচারে পাখি শিকার ও বিক্রি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা Logo নাসিরনগরে স্পিডবোট-বাল্কহেড সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১ Logo বাহুবলে মাদক সেবন ও হট্টগোলের দায়ে ইছব আলীর ৭ মাসের কারাদণ্ড Logo আপত্তির মুখেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের কনসার্টে শ্রোতাদের ঢল Logo চুনারুঘাটে হুইলচেয়ারেই কাটে প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেবের জীবন Logo সাত ধাপে ইউপি ভোট, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর

কাজে আসছে না তিন কোটি টাকার ব্রীজ

বাংলার খবর ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজ দুই বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। দুই পাশে সংযোগমাটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত দশ হাজার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ছড়া নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রীজটির দুই পাশের মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে যায়। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ব্রীজের পাশের ছড়ায় পানি জমে থাকায় পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বাগানের শ্রমিক নির্মলা দেবী বলেন, “দুই বছর ধরে এই ভাঙা ব্রিজের কারণে আমরা প্রচণ্ড কষ্টে আছি। বৃষ্টি নামলে ছড়া পার হতে ভয় লাগে, অনেক সময় পিছলে পড়ে যাই।” শ্রমিক সুনিতা তেপা বলেন, “এত টাকা খরচ করে ব্রিজটা বানানো হলো, কিন্তু এখন সেটি মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে আছে।”

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক কমল সরকার জানান, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডিকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।”

এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “শিশুরা প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে স্কুলে যায়। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “ব্রীজের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ চলমান রয়েছে।” তবে জানা গেছে, ২০২২ সালের প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প ভেঙে পড়ার পরও ঠিকাদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অবহেলায় সেতুটি এখন প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পথে। এতে শ্রমিক ও বাসিন্দাদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো যদি জনগণের কাজে না আসে, তবে তা অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: চলাচল অনুপযোগী সুরমা চা বাগানের ভাঙা ব্রিজ — দুই বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বিনামূল্যে ৩০৩ রোগীর চোখের অপারেশন

error:

কাজে আসছে না তিন কোটি টাকার ব্রীজ

আপডেট সময় ০২:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজ দুই বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। দুই পাশে সংযোগমাটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত দশ হাজার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ছড়া নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রীজটির দুই পাশের মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে যায়। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ব্রীজের পাশের ছড়ায় পানি জমে থাকায় পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বাগানের শ্রমিক নির্মলা দেবী বলেন, “দুই বছর ধরে এই ভাঙা ব্রিজের কারণে আমরা প্রচণ্ড কষ্টে আছি। বৃষ্টি নামলে ছড়া পার হতে ভয় লাগে, অনেক সময় পিছলে পড়ে যাই।” শ্রমিক সুনিতা তেপা বলেন, “এত টাকা খরচ করে ব্রিজটা বানানো হলো, কিন্তু এখন সেটি মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে আছে।”

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক কমল সরকার জানান, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডিকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।”

এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “শিশুরা প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে স্কুলে যায়। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “ব্রীজের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ চলমান রয়েছে।” তবে জানা গেছে, ২০২২ সালের প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প ভেঙে পড়ার পরও ঠিকাদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অবহেলায় সেতুটি এখন প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পথে। এতে শ্রমিক ও বাসিন্দাদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো যদি জনগণের কাজে না আসে, তবে তা অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: চলাচল অনুপযোগী সুরমা চা বাগানের ভাঙা ব্রিজ — দুই বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে।