ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিল ২২০ শিক্ষার্থী Logo হবিগঞ্জে হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে সাড়ে তিন বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, আটক চার Logo ঠাকুরগাঁওয়ে জয়-পরাজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে উন্নয়নের আহ্বান মির্জা ফয়সল আমিনের Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে স্বপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল Logo মালদ্বীপে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo ৩১ অক্টোবর মাধবপুরে গাউছিয়া খায়েরিয়া দরবার শরীফের ৭৫তম ওরশ ও দোয়া মাহফিল Logo মাধবপুরে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ৫ কিলোমিটার যানজট

কাজে আসছে না তিন কোটি টাকার ব্রীজ

বাংলার খবর ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজ দুই বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। দুই পাশে সংযোগমাটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত দশ হাজার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ছড়া নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রীজটির দুই পাশের মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে যায়। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ব্রীজের পাশের ছড়ায় পানি জমে থাকায় পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বাগানের শ্রমিক নির্মলা দেবী বলেন, “দুই বছর ধরে এই ভাঙা ব্রিজের কারণে আমরা প্রচণ্ড কষ্টে আছি। বৃষ্টি নামলে ছড়া পার হতে ভয় লাগে, অনেক সময় পিছলে পড়ে যাই।” শ্রমিক সুনিতা তেপা বলেন, “এত টাকা খরচ করে ব্রিজটা বানানো হলো, কিন্তু এখন সেটি মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে আছে।”

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক কমল সরকার জানান, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডিকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।”

এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “শিশুরা প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে স্কুলে যায়। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “ব্রীজের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ চলমান রয়েছে।” তবে জানা গেছে, ২০২২ সালের প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প ভেঙে পড়ার পরও ঠিকাদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অবহেলায় সেতুটি এখন প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পথে। এতে শ্রমিক ও বাসিন্দাদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো যদি জনগণের কাজে না আসে, তবে তা অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: চলাচল অনুপযোগী সুরমা চা বাগানের ভাঙা ব্রিজ — দুই বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিল ২২০ শিক্ষার্থী

error:

কাজে আসছে না তিন কোটি টাকার ব্রীজ

আপডেট সময় ০২:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজ দুই বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। দুই পাশে সংযোগমাটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত দশ হাজার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ছড়া নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রীজটির দুই পাশের মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে যায়। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ব্রীজের পাশের ছড়ায় পানি জমে থাকায় পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বাগানের শ্রমিক নির্মলা দেবী বলেন, “দুই বছর ধরে এই ভাঙা ব্রিজের কারণে আমরা প্রচণ্ড কষ্টে আছি। বৃষ্টি নামলে ছড়া পার হতে ভয় লাগে, অনেক সময় পিছলে পড়ে যাই।” শ্রমিক সুনিতা তেপা বলেন, “এত টাকা খরচ করে ব্রিজটা বানানো হলো, কিন্তু এখন সেটি মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে আছে।”

বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক কমল সরকার জানান, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডিকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।”

এক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “শিশুরা প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে স্কুলে যায়। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “ব্রীজের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ চলমান রয়েছে।” তবে জানা গেছে, ২০২২ সালের প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প ভেঙে পড়ার পরও ঠিকাদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অবহেলায় সেতুটি এখন প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়ার পথে। এতে শ্রমিক ও বাসিন্দাদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

তারা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো যদি জনগণের কাজে না আসে, তবে তা অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: চলাচল অনুপযোগী সুরমা চা বাগানের ভাঙা ব্রিজ — দুই বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে।