ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের মরদেহ নবীগঞ্জে উদ্ধার Logo হাইমচরে ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবা, কম খরচে পাঠানো যাচ্ছে পার্সেল Logo গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৭৮ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, কমেছে রপ্তানি আদেশ Logo টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন নিগার সুলতানা Logo বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমারই ছিল: আসিফ নজরুল Logo ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক Logo মাধবপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি Logo সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা Logo সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত, প্রথমবার মুক্ত আকাশ দেখল শিশুটি

মরার উপর খাড়ার ঘা! বিদ্যালয়ের ফ্যান চুরির দায় চাপানো হলো দপ্তরির কাঁধে

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়া চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দায় চাপানো হয়েছে বিদ্যালয়ের হতদরিদ্র দপ্তরি কাম প্রহরী সাইদুর রহমানের উপর। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রায় দেড় মাস আগে রাতে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে অজ্ঞাত চোরচক্র ফ্যানগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা জিডি করেনি। পরবর্তীতে চুরির দায় চাপানো হয় দপ্তরি সাইদুর রহমানের ঘাড়ে।

অত্যন্ত ঋণগ্রস্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“চুরি করেছে অন্য কেউ, অথচ দোষ দেওয়া হয়েছে আমাকে। আমি প্রতিদিন অপমানে কাঁদি। এলাকাবাসীও বিশ্বাস করবে না আমি চুরি করেছি।”

ফ্যান কেনার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম দোকান থেকে বাকিতে নিয়ে জিম্মা হয়েছেন। বাকি দুটি ফ্যানের জন্যও সাইদুরের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল বলেন,
“সাইদুর অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার উপর দোষ চাপানো হলে সে চোরের কলঙ্কে কলঙ্কিত হবে। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা প্রয়োজন।”

প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম বলেন,
“বিভিন্ন জটিলতার কারণে তখন জিডি করা হয়নি। আমি নিজে দোকান থেকে দুটি ফ্যান বাকিতে এনে দিয়েছি। মূল্য না দিলে আমাকে পরিশোধ করতে হবে।”

এদিকে জানা গেছে, চলতি বছর মাধবপুর উপজেলায় আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে থানায় জিডি হলেও দপ্তরির উপর দায় চাপানোর নজির নেই।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন,
“চুরি হওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষিকাকে জিডি করতে বলা হয়েছিল। এখন সিসিটিভির আওতায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এলাকাবাসী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন নিম্নবেতনভুক্ত দপ্তরির উপর দায় চাপানো অমানবিক ও অন্যায়। এ ঘটনায় দপ্তরি কাম প্রহরীদের পেশাজীবী সংগঠন থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের মরদেহ নবীগঞ্জে উদ্ধার

error:

মরার উপর খাড়ার ঘা! বিদ্যালয়ের ফ্যান চুরির দায় চাপানো হলো দপ্তরির কাঁধে

আপডেট সময় ০৪:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হওয়া চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের দায় চাপানো হয়েছে বিদ্যালয়ের হতদরিদ্র দপ্তরি কাম প্রহরী সাইদুর রহমানের উপর। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রায় দেড় মাস আগে রাতে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে অজ্ঞাত চোরচক্র ফ্যানগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা জিডি করেনি। পরবর্তীতে চুরির দায় চাপানো হয় দপ্তরি সাইদুর রহমানের ঘাড়ে।

অত্যন্ত ঋণগ্রস্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“চুরি করেছে অন্য কেউ, অথচ দোষ দেওয়া হয়েছে আমাকে। আমি প্রতিদিন অপমানে কাঁদি। এলাকাবাসীও বিশ্বাস করবে না আমি চুরি করেছি।”

ফ্যান কেনার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম দোকান থেকে বাকিতে নিয়ে জিম্মা হয়েছেন। বাকি দুটি ফ্যানের জন্যও সাইদুরের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল বলেন,
“সাইদুর অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার উপর দোষ চাপানো হলে সে চোরের কলঙ্কে কলঙ্কিত হবে। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা প্রয়োজন।”

প্রধান শিক্ষিকা জায়েদা বেগম বলেন,
“বিভিন্ন জটিলতার কারণে তখন জিডি করা হয়নি। আমি নিজে দোকান থেকে দুটি ফ্যান বাকিতে এনে দিয়েছি। মূল্য না দিলে আমাকে পরিশোধ করতে হবে।”

এদিকে জানা গেছে, চলতি বছর মাধবপুর উপজেলায় আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে থানায় জিডি হলেও দপ্তরির উপর দায় চাপানোর নজির নেই।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন,
“চুরি হওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষিকাকে জিডি করতে বলা হয়েছিল। এখন সিসিটিভির আওতায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এলাকাবাসী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন নিম্নবেতনভুক্ত দপ্তরির উপর দায় চাপানো অমানবিক ও অন্যায়। এ ঘটনায় দপ্তরি কাম প্রহরীদের পেশাজীবী সংগঠন থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে।