ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা Logo হাইমচরের উত্তর আলগীতে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা Logo মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গলে বিজিবির অভিযান, দেড় লাখ টাকার মাদক ও পণ্য জব্দ Logo মাধবপুরে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার মামলায় আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড Logo আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ, লাখাইয়ের ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার Logo হাইমচরে ১৫১ ধারায় তিনজন গ্রেপ্তার Logo তেঁতুলিয়ায় বাড়ছে শীতের আমেজ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৪ ডিগ্রি Logo পাওয়ার প্লেতে বিশ্বরেকর্ড, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ ভারতের Logo ঢাকা-সিলেট যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনা, চার লেন হচ্ছে সরাইল-লাখাই মহাসড়ক Logo মাধবপুর উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির নির্বাচন ১৪ নভেম্বর, ১৩ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

খড়মপুরে কেল্লা বাবার মাজার ঘিরে লোককথা, বিশ্বাস আর ভক্তির স্রোত

Oplus_16777216

বাংলার খবর প্রতিনিধি, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খড়মপুর এলাকায় অবস্থিত কেল্লা বাবার মাজার ঘিরে রয়েছে শত শত বছরের ইতিহাস, লোককথা আর অলৌকিক বিশ্বাস। দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত প্রতিবছর এই মাজারে আসেন পূণ্যলাভের আশায়।

লোককথা অনুযায়ী, হযরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ছিলেন হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৩৬০ আউলিয়ার একজন। শত্রুর সাথে যুদ্ধের সময় তার কল্লা বিচ্ছিন্ন হয়ে তিতাস নদীতে ভেসে যায়। একসময় জেলেদের জালে আটকে পড়ে সেই কল্লা। তখন অলৌকিকভাবে সেই শির কথা বলে এবং মানুষকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানায়। সেই স্থানেই পরে নির্মিত হয় মাজার শরীফ, যা এখন ‘কেল্লা বাবার মাজার’ নামে পরিচিত।

মাজারটি প্রায় ২৬০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। প্রতিবছর বর্ষাকালে এখানে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তাহব্যাপী ‘ওরস শরীফ’। সাধারণত প্রতি বছর ১০ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৪ আগস্ট রাত ১২টায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মূল আয়োজন হয় এবং ১৬ আগস্ট পর্যন্ত উৎসব চলে। নদীপথে হাজারো ভক্ত গান-বাজনা, সেলাম ও দোয়ার মাধ্যমে মাজারে উপস্থিত হন। নদীর দুই পাড় জুড়ে চলে উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, কেল্লা বাবার মাজারে মানত করলে মনোবাসনা পূরণ হয়। কেউ সন্তান না পেলে এখানে মানত করেন, কেউবা অসুস্থ হলে সুস্থতার আশায় আসেন। বহু মানুষ এখানে এসে মানসিক শান্তি ও আলোকিত জীবন ফিরে পাওয়ার কথা বলেন।

এই মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনও। ভক্তি, ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসের এক অপূর্ব মিলনস্থল এই কেল্লা বাবার মাজার আজও কোটি মানুষের প্রেরণা ও আশ্রয়স্থল হয়ে আছে।

লি ট ন বি ন ই স লা ম

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

error:

খড়মপুরে কেল্লা বাবার মাজার ঘিরে লোককথা, বিশ্বাস আর ভক্তির স্রোত

আপডেট সময় ০২:৪৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

বাংলার খবর প্রতিনিধি, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খড়মপুর এলাকায় অবস্থিত কেল্লা বাবার মাজার ঘিরে রয়েছে শত শত বছরের ইতিহাস, লোককথা আর অলৌকিক বিশ্বাস। দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত প্রতিবছর এই মাজারে আসেন পূণ্যলাভের আশায়।

লোককথা অনুযায়ী, হযরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ছিলেন হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৩৬০ আউলিয়ার একজন। শত্রুর সাথে যুদ্ধের সময় তার কল্লা বিচ্ছিন্ন হয়ে তিতাস নদীতে ভেসে যায়। একসময় জেলেদের জালে আটকে পড়ে সেই কল্লা। তখন অলৌকিকভাবে সেই শির কথা বলে এবং মানুষকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানায়। সেই স্থানেই পরে নির্মিত হয় মাজার শরীফ, যা এখন ‘কেল্লা বাবার মাজার’ নামে পরিচিত।

মাজারটি প্রায় ২৬০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। প্রতিবছর বর্ষাকালে এখানে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তাহব্যাপী ‘ওরস শরীফ’। সাধারণত প্রতি বছর ১০ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৪ আগস্ট রাত ১২টায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মূল আয়োজন হয় এবং ১৬ আগস্ট পর্যন্ত উৎসব চলে। নদীপথে হাজারো ভক্ত গান-বাজনা, সেলাম ও দোয়ার মাধ্যমে মাজারে উপস্থিত হন। নদীর দুই পাড় জুড়ে চলে উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, কেল্লা বাবার মাজারে মানত করলে মনোবাসনা পূরণ হয়। কেউ সন্তান না পেলে এখানে মানত করেন, কেউবা অসুস্থ হলে সুস্থতার আশায় আসেন। বহু মানুষ এখানে এসে মানসিক শান্তি ও আলোকিত জীবন ফিরে পাওয়ার কথা বলেন।

এই মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনও। ভক্তি, ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসের এক অপূর্ব মিলনস্থল এই কেল্লা বাবার মাজার আজও কোটি মানুষের প্রেরণা ও আশ্রয়স্থল হয়ে আছে।

লি ট ন বি ন ই স লা ম