ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, হবিগঞ্জে কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, হবিগঞ্জে কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এফ আই আর এর আদেশ দিয়েছেন। ১৫ এপ্রিল দুপুরে হবিগঞ্জের আইনজীবী সেলিম আহমেদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় চুনারুঘাট উপজেলার ছয়শ্রী গ্রামের ইসমাইল মিয়ার পুত্র ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মুক্তা আক্তারকে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাদের একটি ভিডিওটি শেয়ার করেছেন অনেকে। ভিডিওটি সুরা ফাতেহাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। এই কনটেন্ট মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইব্রাহিম নামাজে যাচ্ছিল, এ সময় মুক্তা বারান্দার সিড়িতে বসে থালায় চাউল খুটছিল। ইব্রাহিমের ধাক্কায় থালা পড়ে গেলে মুক্তা ব্যঙ্গ করার স্বরে বলে উঠে মালিকী ইয়ামুদ্দিন’, জবাবে ইব্রাহিম বলছে ইয়্যাকা না’বুদু অইয়্যাকা নাস্তাঈন।” আমি নামাজ পড়তে যাই। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাসির রুল পড়ে।

ভিডিওটিতে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। মুক্তা আক্তার ওরফে পাঙ্গাস মুক্তা আর ইব্রাহিম চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ইকরতলি গ্রামের বাসিন্দা। তাদের পূর্ব বাড়ি আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ ছয়শ্রী গ্রামে। এক সময় ইব্রাহিম কাঠমিস্ত্রির কাজ করতো। বিগত কয়েক বছর ধরে নানা বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করে আলোচনায় আসে এবং কোটি টাকার মালিক হয়। এর মধ্যে পাঙ্গাস মুক্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মুক্তা বিগত উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারায়। তার সাথে ৮-১০ জনের একটি কনটেন্ট তৈরির বাহিনী রয়েছে। যাদের কাজই হচ্ছে বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করা। এ বিষয়ে মুফতি হাফেজ নাছির উদ্দিন জানান, বিষয়টি পবিত্র কোরআন শরীফকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। যা কুফরীর সামিল। এদিকে গত রবিবার বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে চুনারুঘাট সহ বিভিন্ন উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রতিবাদ জানান। অনেকে প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যান চুনারুঘাট উপজেলার তৌহিদী জনতা। এদিকে তারা লাইভে এসে ক্ষমা চেয়েছে এ বিষয়ে। কিন্তু তৌহিদী জনতা তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ধরতে কয়েক দফা অভিযান চালালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

মামলার বাদী আইনজীবী সেলিম আহমেদ বলেন, মুসলমান হিসেবে সকলের ধর্মানুভূতিতে আঘাত আনা হয়েছে। তাদের শাস্তির দাবিতে মামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য মুক্তা ইব্রাহিম এর এসব বিতর্কিত ভিডিও দেখে ইতিমধ্যে চুনারুঘাট মাধবপুর সহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এরকম একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়টরের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে দিন দিন বিতর্কিত কনট ক্রিয়টরের সৃষ্টি হলে একসময় সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিতর্কিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সাথে তাদের বিতর্কিত ভিডিওগুলো চালানোর ফেসবুক আইডি ও পেজ গুলো ব্লক করে দেওয়ার দাবি করছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, হবিগঞ্জে কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

আপডেট সময় ০৯:১৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, হবিগঞ্জে কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এফ আই আর এর আদেশ দিয়েছেন। ১৫ এপ্রিল দুপুরে হবিগঞ্জের আইনজীবী সেলিম আহমেদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় চুনারুঘাট উপজেলার ছয়শ্রী গ্রামের ইসমাইল মিয়ার পুত্র ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মুক্তা আক্তারকে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাদের একটি ভিডিওটি শেয়ার করেছেন অনেকে। ভিডিওটি সুরা ফাতেহাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। এই কনটেন্ট মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইব্রাহিম নামাজে যাচ্ছিল, এ সময় মুক্তা বারান্দার সিড়িতে বসে থালায় চাউল খুটছিল। ইব্রাহিমের ধাক্কায় থালা পড়ে গেলে মুক্তা ব্যঙ্গ করার স্বরে বলে উঠে মালিকী ইয়ামুদ্দিন’, জবাবে ইব্রাহিম বলছে ইয়্যাকা না’বুদু অইয়্যাকা নাস্তাঈন।” আমি নামাজ পড়তে যাই। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাসির রুল পড়ে।

ভিডিওটিতে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। মুক্তা আক্তার ওরফে পাঙ্গাস মুক্তা আর ইব্রাহিম চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ইকরতলি গ্রামের বাসিন্দা। তাদের পূর্ব বাড়ি আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ ছয়শ্রী গ্রামে। এক সময় ইব্রাহিম কাঠমিস্ত্রির কাজ করতো। বিগত কয়েক বছর ধরে নানা বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করে আলোচনায় আসে এবং কোটি টাকার মালিক হয়। এর মধ্যে পাঙ্গাস মুক্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মুক্তা বিগত উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারায়। তার সাথে ৮-১০ জনের একটি কনটেন্ট তৈরির বাহিনী রয়েছে। যাদের কাজই হচ্ছে বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করা। এ বিষয়ে মুফতি হাফেজ নাছির উদ্দিন জানান, বিষয়টি পবিত্র কোরআন শরীফকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। যা কুফরীর সামিল। এদিকে গত রবিবার বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে চুনারুঘাট সহ বিভিন্ন উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রতিবাদ জানান। অনেকে প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যান চুনারুঘাট উপজেলার তৌহিদী জনতা। এদিকে তারা লাইভে এসে ক্ষমা চেয়েছে এ বিষয়ে। কিন্তু তৌহিদী জনতা তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ধরতে কয়েক দফা অভিযান চালালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

মামলার বাদী আইনজীবী সেলিম আহমেদ বলেন, মুসলমান হিসেবে সকলের ধর্মানুভূতিতে আঘাত আনা হয়েছে। তাদের শাস্তির দাবিতে মামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য মুক্তা ইব্রাহিম এর এসব বিতর্কিত ভিডিও দেখে ইতিমধ্যে চুনারুঘাট মাধবপুর সহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এরকম একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়টরের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে দিন দিন বিতর্কিত কনট ক্রিয়টরের সৃষ্টি হলে একসময় সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিতর্কিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সাথে তাদের বিতর্কিত ভিডিওগুলো চালানোর ফেসবুক আইডি ও পেজ গুলো ব্লক করে দেওয়ার দাবি করছেন তারা।