ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চুনারুঘাটে বিরল সৌন্দর্যের কুটুম পাখির দেখা, উদ্ধার করে চা বাগানে অবমুক্ত Logo হাইমচরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড, আটক ৮ Logo জামালগঞ্জের এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে Logo মাধবপুরে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও মালামাল পুড়ে ছাই, ক্ষতি ৩০ লাখ টাকা Logo টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনা নিয়ে রাশেদ খাঁনের মন্তব্য, রাজনৈতিক নেতার আচরণ নিয়েও সমালোচনা Logo কানাডা সফর শেষে দেশে ফিরেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম Logo রুমিন ফারহানা-ওসির বাগ্‌বিতণ্ডা, সরাইল থানায় পুলিশের জিডি Logo মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, অক্ষত সংগীতশিল্পী Logo লাখাইয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্রি হচ্ছে আকাশমণি-ইউক্যালিপটাসের চারা Logo লাখাইয়ে রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানোর অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ক্রেতারা

চুনারুঘাটে বিরল সৌন্দর্যের কুটুম পাখির দেখা, উদ্ধার করে চা বাগানে অবমুক্ত

আব্দুল জাহির মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দেখা মিলেছে উজ্জ্বল হলুদ ও কালো রঙের কুটুম পাখির। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর রানীগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়জুষ (আঠারো বাঘিয়া) গ্রাম এলাকায় পাখিটি দেখতে পান ইসলামী ছাত্রসেনার নেতা শামসুল ইসলাম জাকি। পরে পাখিটি উদ্ধার করে চা বাগান এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।

কুটুম পাখি গ্রামবাংলায় ‘ইষ্টিকুটুম’, ‘হলদে পাখি’ বা ‘কালোমাথা বেনেবউ’ নামেও পরিচিত। উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ পালক, কালো মাথা ও গলার অংশ এবং সুরেলা ডাকের জন্য পাখিটি পরিচিত। দেখতে অনেকটা শালিক বা ময়না পাখির মতো হলেও এর গায়ের রঙ সহজেই আলাদা করে চেনা যায়।

পাখিটির শরীরের অধিকাংশ পালক হলুদ হলেও মাথা, গলা, বুকের ওপরের অংশ ও ডানার কিছু অংশ কালো। চোখ লালচে এবং ঠোঁট গোলাপি আভাযুক্ত। সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে এরা। ঘন পাতার গাছ, আমবাগান, বাঁশঝাড় ও বনাঞ্চলের উঁচু গাছে থাকতে পছন্দ করে।

কুটুম পাখি বিভিন্ন ছোট ফল, ডুমুর, ফুলের মধু ও ছোট পোকামাকড় খেয়ে থাকে। প্রজনন মৌসুমে গাছের উঁচু ডালে ঘাস, উদ্ভিদের তন্তু ও মাকড়সার জাল দিয়ে বাসা তৈরি করে। এর ডাক বাঁশির মতো সুরেলা হওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পাখিটি বিশেষ আকর্ষণীয়।

গ্রামবাংলার লোকবিশ্বাসে রয়েছে, বাড়ির আশপাশে কুটুম পাখি ডাকলে অতিথি বা আত্মীয়স্বজন আসেন। এ বিশ্বাস থেকেই পাখিটির নাম হয়েছে ‘ইষ্টিকুটুম’।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং গাছপালা রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। পাখি উদ্ধার করে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে বিরল সৌন্দর্যের কুটুম পাখির দেখা, উদ্ধার করে চা বাগানে অবমুক্ত

error:

চুনারুঘাটে বিরল সৌন্দর্যের কুটুম পাখির দেখা, উদ্ধার করে চা বাগানে অবমুক্ত

আপডেট সময় ১০:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আব্দুল জাহির মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দেখা মিলেছে উজ্জ্বল হলুদ ও কালো রঙের কুটুম পাখির। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর রানীগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়জুষ (আঠারো বাঘিয়া) গ্রাম এলাকায় পাখিটি দেখতে পান ইসলামী ছাত্রসেনার নেতা শামসুল ইসলাম জাকি। পরে পাখিটি উদ্ধার করে চা বাগান এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।

কুটুম পাখি গ্রামবাংলায় ‘ইষ্টিকুটুম’, ‘হলদে পাখি’ বা ‘কালোমাথা বেনেবউ’ নামেও পরিচিত। উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ পালক, কালো মাথা ও গলার অংশ এবং সুরেলা ডাকের জন্য পাখিটি পরিচিত। দেখতে অনেকটা শালিক বা ময়না পাখির মতো হলেও এর গায়ের রঙ সহজেই আলাদা করে চেনা যায়।

পাখিটির শরীরের অধিকাংশ পালক হলুদ হলেও মাথা, গলা, বুকের ওপরের অংশ ও ডানার কিছু অংশ কালো। চোখ লালচে এবং ঠোঁট গোলাপি আভাযুক্ত। সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে এরা। ঘন পাতার গাছ, আমবাগান, বাঁশঝাড় ও বনাঞ্চলের উঁচু গাছে থাকতে পছন্দ করে।

কুটুম পাখি বিভিন্ন ছোট ফল, ডুমুর, ফুলের মধু ও ছোট পোকামাকড় খেয়ে থাকে। প্রজনন মৌসুমে গাছের উঁচু ডালে ঘাস, উদ্ভিদের তন্তু ও মাকড়সার জাল দিয়ে বাসা তৈরি করে। এর ডাক বাঁশির মতো সুরেলা হওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পাখিটি বিশেষ আকর্ষণীয়।

গ্রামবাংলার লোকবিশ্বাসে রয়েছে, বাড়ির আশপাশে কুটুম পাখি ডাকলে অতিথি বা আত্মীয়স্বজন আসেন। এ বিশ্বাস থেকেই পাখিটির নাম হয়েছে ‘ইষ্টিকুটুম’।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং গাছপালা রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। পাখি উদ্ধার করে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।