
আব্দুল জাহির মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দেখা মিলেছে উজ্জ্বল হলুদ ও কালো রঙের কুটুম পাখির। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর রানীগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়জুষ (আঠারো বাঘিয়া) গ্রাম এলাকায় পাখিটি দেখতে পান ইসলামী ছাত্রসেনার নেতা শামসুল ইসলাম জাকি। পরে পাখিটি উদ্ধার করে চা বাগান এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।
কুটুম পাখি গ্রামবাংলায় ‘ইষ্টিকুটুম’, ‘হলদে পাখি’ বা ‘কালোমাথা বেনেবউ’ নামেও পরিচিত। উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ পালক, কালো মাথা ও গলার অংশ এবং সুরেলা ডাকের জন্য পাখিটি পরিচিত। দেখতে অনেকটা শালিক বা ময়না পাখির মতো হলেও এর গায়ের রঙ সহজেই আলাদা করে চেনা যায়।
পাখিটির শরীরের অধিকাংশ পালক হলুদ হলেও মাথা, গলা, বুকের ওপরের অংশ ও ডানার কিছু অংশ কালো। চোখ লালচে এবং ঠোঁট গোলাপি আভাযুক্ত। সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে এরা। ঘন পাতার গাছ, আমবাগান, বাঁশঝাড় ও বনাঞ্চলের উঁচু গাছে থাকতে পছন্দ করে।
কুটুম পাখি বিভিন্ন ছোট ফল, ডুমুর, ফুলের মধু ও ছোট পোকামাকড় খেয়ে থাকে। প্রজনন মৌসুমে গাছের উঁচু ডালে ঘাস, উদ্ভিদের তন্তু ও মাকড়সার জাল দিয়ে বাসা তৈরি করে। এর ডাক বাঁশির মতো সুরেলা হওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পাখিটি বিশেষ আকর্ষণীয়।
গ্রামবাংলার লোকবিশ্বাসে রয়েছে, বাড়ির আশপাশে কুটুম পাখি ডাকলে অতিথি বা আত্মীয়স্বজন আসেন। এ বিশ্বাস থেকেই পাখিটির নাম হয়েছে ‘ইষ্টিকুটুম’।
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং গাছপালা রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। পাখি উদ্ধার করে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















