
বাংলার খবর ডেস্ক:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্তর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদককে দায়ী করার পাশাপাশি প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের কথাও লিখেছেন তিনি। এদিকে অস্বাভাবিক আচরণের পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) মধ্যরাতে ‘AC Land Jamalganj’ নামের ফেসবুক পেজে পোস্ট দুটি দেখা যায়। একটি পোস্টে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবে।’ কিছুক্ষণ পর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আই রিজাইন ফ্রম এডমিন ক্যাডার।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরেই আরিফুর রহমান শান্তর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল। শনিবার জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে কেক কাটার পর তাঁর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে বলে জানান ইউএনও।
শিল্পী রাণী মোদকের ভাষ্য, ওই সময় আরিফুর রহমান শান্ত তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং পরে বাসায় গিয়ে কাচের গ্লাস ভাঙেন। একপর্যায়ে বাসার সামনে থাকা দুই শিশুকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময়ই ফেসবুকে পোস্ট দুটি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ইউএনও জানান, আরিফুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে ঘুমের ইনজেকশন দিতে হয়। তবে জামালগঞ্জের ফার্মেসিগুলোতে ওই ওষুধ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আরিফুর রহমানের স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে বলেও জানান তিনি।
শিল্পী রাণী মোদক বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে আরিফুর রহমানকে শান্ত করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তাঁর আগের কর্মস্থলেও যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান ইউএনও। সেখানে তাঁর মানসিক অসুস্থতার কথা জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ইউএনও আরও বলেন, আরিফুর রহমান সুস্থ হয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরুন—এটাই তাঁর প্রত্যাশা। তবে ফেসবুকে এমন পোস্ট দেওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে জানান।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, ইউএনওর ফোন পেয়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আরিফুর রহমানের অস্বাভাবিক আচরণের কথা জানতে পেরে তাঁকে শান্ত করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
পরে রোববার সকালে আরিফুর রহমানকে সিলেটে নেওয়া হয়। প্রথমে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে বহনকারী গাড়িটি ভৈরব এলাকায় ছিল।
তাঁর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা এবং ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী তথ্য জানা যাবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















