
বাংলার খবর ২৪ ডেস্ক নিউজ:
বিশ্বজুড়ে সরকার, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ বেড়ে প্রায় ৩৬৫ লাখ কোটি (ট্রিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সের (আইআইএফ) হিসাবে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই এই ঋণ বেড়েছে ১০ লাখ কোটি ডলার। মাথাপিছু হিসাবে তা প্রায় ৪৪ হাজার ডলার।
সরকারি ঋণে সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ঋণ ৪১ দশমিক ৪ লাখ কোটি ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের ঋণ ২২ দশমিক ৫ লাখ কোটি ডলার, জিডিপির ১০৪ শতাংশ।
এরপর রয়েছে জাপান (৮ দশমিক ৭ লাখ কোটি ডলার, জিডিপির ১৯৯ শতাংশ), যুক্তরাজ্য (৪ দশমিক ৪ লাখ কোটি ডলার, ১০২ শতাংশ), ফ্রান্স (৪ দশমিক ২ লাখ কোটি ডলার, ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ), ইতালি (৩ দশমিক ৭ লাখ কোটি ডলার, ১৩৮ শতাংশ) ও জার্মানি (৩ দশমিক ৫ লাখ কোটি ডলার, ৬৫ শতাংশ)।
এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ২০ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার, যা জিডিপির ৪০ শতাংশ।
ঋণের চাপ সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে ইউরোপে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও দুর্বল সরকারি সেবার প্রতিবাদে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সম্প্রতি এক শনিবারেই দেশটিতে সাড়ে ৫ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নামেন। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে গড়ায়।
বিনিয়োগকারীরা ফ্রান্সকে এখন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। দেশটিকে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডে প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে, যেখানে জার্মানির সুদহার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। ফ্রান্সের ঋণের খরচ এখন ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও বেশি, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
উন্নত দেশগুলো গত এক বছরে শুধু বন্ডের সুদ বাবদ ৩ দশমিক ৩ লাখ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেছে। এই অঙ্ক তাদের প্রতিরক্ষা (৩ দশমিক ১ লাখ কোটি ডলার), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (২ দশমিক ৬ লাখ কোটি ডলার) কিংবা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের (২ দশমিক ৩ লাখ কোটি ডলার) ব্যয়ের চেয়েও বেশি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















