
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ জানিয়ে এরই মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০ আবেদন জমা পড়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে অনেক জায়গায় অভিজ্ঞ আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় অনভিজ্ঞ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও একই পরিবারের একাধিক সদস্য ডিলারশিপ পেয়েছেন। নিজস্ব গুদাম নেই এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া এবং যাচাই তালিকার ক্রম বদলে দেওয়ার অভিযোগও এসেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: তদারকি কমিটির সুপারিশে অনিয়ম, এক পরিবারে একাধিক নিয়োগ, বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নামে সুপারিশের কারণ, এবং নীতিমালা ভেঙে ডিলার নির্বাচন। গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০টি নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
কৃষি সচিব সেলিম খান জানিয়েছেন, নীতিমালা ও জেলার সুপারিশ মেনেই সারা দেশে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের সুপারিশে গুরুতর অনিয়ম মিললে কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানও বলেছেন, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নিয়োগ হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ তদন্তে যশোর জেলা প্রশাসন মনিরামপুর, অভয়নগর ও চৌগাছা উপজেলার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এবং যশোরের বাঘারপাড়া থেকেও অভিযোগ এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও অভিযুক্তরা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আগামী নভেম্বর থেকে আলু, গম, ভুট্টা ও শীতকালীন সবজির মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়বে। তার আগেই ডিলার নিয়োগের জটিলতা মেটানোর ওপর জোর দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। সার ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মজুতে কোনো ঘাটতি নেই, আর সৌদি আরব, বেলারুশ, মরক্কো ও কানাডা থেকে সার আমদানি চলছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















