
মাধবপুর প্রতিনিধি: অদম্য অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ প্রস্তুতির স্বীকৃতি পেলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের কৃতী সন্তান আব্দুল কাইয়ুম। ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) পদে গেজেটেড হওয়ার পর কর্মজীবনের প্রথম পদায়ন পেয়েছেন হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে। তাঁর এ অর্জনে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম ইটাখোলা গ্রামের বাচ্চু মিয়া ও পারভিন বেগম দম্পতির সন্তান। চার ভাই ও এক বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা কাইয়ুম শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
২০১২ সালে সৈয়দ সাঈদ উদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায়ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন। এ পর্যায়ে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৬৬। ২০১৯ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে অর্জন করেন ৩.৬৭ সিজিপিএ।
শিক্ষাজীবন শেষে ২০২১ সালের মে মাসে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন আব্দুল কাইয়ুম। তবে চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতিও চালিয়ে যান তিনি। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও নিরলস প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে গেজেটেড হওয়ার পর তাঁর প্রথম কর্মস্থল হিসেবে নির্ধারিত হয় বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ।
নিজের এ অর্জনের জন্য বাবা-মা, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, বন্ধু, সহপাঠী, সহধর্মিণী ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, “এই অর্জন আমার একার নয়। বাবা-মায়ের দোয়া ও ত্যাগ, পরিবারের সহযোগিতা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, বন্ধুদের উৎসাহ এবং সহধর্মিণীর মানসিক সমর্থন আমার পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার সকল শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ইটাখোলাসহ এলাকার মানুষ সবসময় ভালোবাসা, উৎসাহ ও দোয়া দিয়ে পাশে থেকেছেন। তাঁদের এই ভালোবাসা আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।”
নতুন কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আব্দুল কাইয়ুম। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে চান।
আব্দুল কাইয়ুমের এ সাফল্যে ইটাখোলা গ্রামে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে নতুন কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















