ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৯ Logo মাধবপুরে ক্ষুদে ডাক্তারদের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo মাধবপুরে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার Logo মাধবপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান সিনেটে জয়ী আবদুল এল-সায়েদ, হতে যাচ্ছেন প্রথম মুসলিম সিনেটর Logo চা শ্রমিকদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকারে চাঁন্দপুরে নিপেন পাল প্যানেলের মতবিনিময় Logo মাধবপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদানে মেতে উঠলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo জামালপুরে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন Logo মাধবপুরে তিন বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে মিলল মহব্বত আলীর দেহাবশেষ, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

জ্ঞানের পরিধি বিস্তারে লেখাপড়ার বিকল্প নেই

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
জ্ঞানের আলো ছাড়া মানবজীবন ও সমাজের অগ্রগতির পথ অন্ধকারে ঢাকা থাকে। মানুষের মননশীলতা, সৃজনশীলতা এবং চিন্তার পরিধি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো নিয়মিত ও গভীর অধ্যয়ন। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই লেখাপড়াকে সীমাবদ্ধ রাখলে জ্ঞানের প্রকৃত দিগন্ত উন্মোচিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন বই পড়ার অভ্যাস এবং নিজে নিজে শেখার মানসিকতা।

একটি জাতি তখনই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে, যখন তার নাগরিকরা জ্ঞানচর্চায় অভ্যস্ত ও মননশীল হয়ে ওঠে। বই মানবসভ্যতার অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও চিন্তার অন্যতম বৃহৎ ভাণ্ডার। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির নানা আবিষ্কার সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয় লেখাপড়া। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ নিজের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে জানতে পারে। এতে দৃষ্টিভঙ্গি হয় আরও উদার, যুক্তিনির্ভর ও প্রগতিশীল।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস অনেক ক্ষেত্রেই কমে যাচ্ছে। মুঠোফোনের স্ক্রিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বল্পস্থায়ী বিনোদনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তরুণদের বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে গভীর চিন্তা, মনোযোগ ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার ওপরও।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। শৈশব থেকেই শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় ও এলাকায় পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং পাঠাভ্যাস বাড়াতে নিয়মিত বই পড়া, আলোচনা ও জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের আয়োজন করা যেতে পারে।

একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধনে অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সচেতন, যুক্তিবাদী ও জ্ঞানসমৃদ্ধ নাগরিক। তাই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বইকে নিত্যদিনের সঙ্গী করে জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৯

error:

জ্ঞানের পরিধি বিস্তারে লেখাপড়ার বিকল্প নেই

আপডেট সময় ১০:১১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
জ্ঞানের আলো ছাড়া মানবজীবন ও সমাজের অগ্রগতির পথ অন্ধকারে ঢাকা থাকে। মানুষের মননশীলতা, সৃজনশীলতা এবং চিন্তার পরিধি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো নিয়মিত ও গভীর অধ্যয়ন। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই লেখাপড়াকে সীমাবদ্ধ রাখলে জ্ঞানের প্রকৃত দিগন্ত উন্মোচিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন বই পড়ার অভ্যাস এবং নিজে নিজে শেখার মানসিকতা।

একটি জাতি তখনই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে, যখন তার নাগরিকরা জ্ঞানচর্চায় অভ্যস্ত ও মননশীল হয়ে ওঠে। বই মানবসভ্যতার অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও চিন্তার অন্যতম বৃহৎ ভাণ্ডার। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির নানা আবিষ্কার সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয় লেখাপড়া। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ নিজের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে জানতে পারে। এতে দৃষ্টিভঙ্গি হয় আরও উদার, যুক্তিনির্ভর ও প্রগতিশীল।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস অনেক ক্ষেত্রেই কমে যাচ্ছে। মুঠোফোনের স্ক্রিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বল্পস্থায়ী বিনোদনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তরুণদের বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে গভীর চিন্তা, মনোযোগ ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার ওপরও।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। শৈশব থেকেই শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় ও এলাকায় পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং পাঠাভ্যাস বাড়াতে নিয়মিত বই পড়া, আলোচনা ও জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের আয়োজন করা যেতে পারে।

একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধনে অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সচেতন, যুক্তিবাদী ও জ্ঞানসমৃদ্ধ নাগরিক। তাই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বইকে নিত্যদিনের সঙ্গী করে জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।