
জালাল উদ্দিন লস্কর স্টাফ রিপোর্টার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় কৃষিকাজের জন্য আমদানি করা ট্রাক্টরের পেছনে অনুমোদন ছাড়াই বডি সংযোজন করে বালু, মাটি ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। এসব ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে নির্মিত উন্নয়ন অবকাঠামোও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ট্রাক্টরের পেছনে অবৈধভাবে বডি সংযোজন করে সেগুলোকে বালু-মাটি ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরু ও ইটসলিং গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ভারী এসব ট্রাক্টর নিয়মিত চলাচল করায় নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে ও ভেঙে যাচ্ছে।
উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া জানান, এক্তিয়ারপুর রেললাইন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট সড়ক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইটসলিং করা হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই বালু-মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের চলাচলে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তেলিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান, স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তেলিয়াপাড়া মসজিদের কাছে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়ক থেকে চৌধুরী বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ইটসলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের ছয় মাস না যেতেই নিয়মিত ট্রাক্টর চলাচলে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুধু তেলিয়াপাড়ার এই সড়ক নয়, পুরো উপজেলাজুড়েই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ করছে। অথচ অবৈধভাবে বডি সংযোজন করা ট্রাক্টরে বালু-মাটি পরিবহনের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
স্থানীয়রা জানান, এসব ট্রাক্টরের কারণে শুধু গ্রামীণ সড়ক নয়, বিভিন্ন কালভার্ট, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাদের দাবি, অবৈধভাবে বডি সংযোজন করে মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নূর মামুন বলেন, ‘জনগণের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তাগুলো করা হয়েছে। কিন্তু এসব বালু-মাটিবাহী অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে জনগণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সোহেল রানা বলেন, এসব গাড়ির কোনো নিবন্ধন নেই। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এসব ট্রাক্টর অবৈধ। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















