
লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালাকের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলার শিকার হয়েছেন তোফাজ্জুল মিয়া (২৭) নামে এক যুবক। এ সময় তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করা এবং সালিশের নির্ধারিত দুই লাখ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত তোফাজ্জুল মিয়া উপজেলার সাতাউক গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে তোফাজ্জুল মিয়ার সঙ্গে ধর্মপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়া ওরফে সজু মিয়ার মেয়ে ফারহানা আক্তার হেনার বিয়ে হয়। কিছুদিন ধরে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয় এবং মেয়েপক্ষকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, তোফাজ্জুল মিয়া দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী চার-পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর অজান্তেই স্ত্রীর সেই গর্ভাবস্থা নষ্ট করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় দুই লাখ টাকা নিয়ে নিজের মামাকে সঙ্গে করে শ্বশুরবাড়িতে যান তোফাজ্জুল। এ সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁর শরীর ও হাতে নীলাফোলা জখম হয় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। মাথায় তাঁকে ৮ থেকে ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর মাথায় সিটি স্ক্যান করানোর প্রয়োজন বলে জানা গেছে।
তোফাজ্জুলের অভিযোগ, হামলার সময় সালিশের টাকা পরিশোধের জন্য নিয়ে যাওয়া নগদ দুই লাখ টাকা ও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে সালিশকারকদের একজনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সালিশে দুই লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছিল এবং সেই টাকা দিতেই তোফাজ্জুল শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। টাকা দেওয়ার সময় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে টাকা কার কাছে রয়েছে, তা তিনি নিজে দেখেননি বলে উল্লেখ করেন। অন্য সালিশকারক ও মেয়েপক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















