
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হাসপাতাল মানেই সুস্থতার প্রত্যাশা নিয়ে মানুষের ছুটে আসা। অথচ সেই হাসপাতালের পরিবেশই যদি অপরিচ্ছন্ন থাকে, তাহলে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতি দেখে নীরব দর্শক হয়ে থাকেননি রহিম মিয়া। নিজ উদ্যোগে কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে নেমে পড়েছেন হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে। তাঁর এ উদ্যোগে প্রশংসা করছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায় ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে রহিম মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া পড়ে।
জানা গেছে, রহিম মিয়া নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ছাতিয়ানবাজারে ব্যবসা করেন। ব্যবসায়িক ব্যস্ততার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় এলাকার সামাজিক সমস্যা, জনদুর্ভোগ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেন তিনি। এসব সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা নিজের ‘রহিম’ নামের ফেসবুক পেজে তুলে ধরে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তাঁর নজরে আসার পর শুধু আলোচনা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখিতে সীমাবদ্ধ থাকেননি। বরং নিজেই উদ্যোগ নিয়ে কয়েকজন যুবককে সঙ্গে করে পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন। তাঁর এ উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের সমস্যা নিয়ে শুধু সমালোচনা নয়, সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানে এগিয়ে আসার বার্তাও উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি হাসপাতালসহ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তবে নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রহিম মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের মতো স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
একটি পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি রোগীদের স্বস্তি, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। ব্যক্তিগত উদ্যোগে রহিম মিয়া ও একদল যুবকের এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মাধবপুরে সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















