
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেছেন, তিনি ক্ষমতার মোহে নয়—জনগণের সেবক ও পাহারাদার হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতিতে এসেছেন।
মাধবপুর উপজেলার সুরমা তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় সৈয়দ ফয়সল তার রাজনৈতিক দর্শন, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তুলে ধরেন।
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি বড় নেতা হতে চাই না, আপনাদের পাহারাদার হতে চাই। আমাকে নির্বাচিত করলে আমি সরকারি দপ্তরের এসি রুমে বসে থাকব না; মাঠে-ময়দানে থেকে সাধারণ মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকব।”
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মাধবপুর–চুনারুঘাট এলাকা অবহেলার শিকার। বিশেষ করে চা বাগান শ্রমিক, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
সৈয়দ ফয়সল বলেন, নির্বাচিত হলে সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। চা বাগান শ্রমিক, সনাতন ধর্মাবলম্বী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “এই এলাকায় কেউ নিপীড়িত হবে না, কেউ জুলুমের শিকার হবে না—সবাই নাগরিক মর্যাদায় স্বাধীনভাবে বসবাস করবে।”
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না। স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ঋণ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
পাশাপাশি রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি বাকি জীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।” বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে চা বাগানসহ অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পথসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আলফাজ মিয়া, হোসাইন মো. রফিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী অনিল রায়, মানিক সরকার, রায়ধন সরকার ও বিকাশ সরকার। তারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
একই দিনে তিনি চুনারুঘাট উপজেলার ৬ নম্বর ইউনিয়নের চাঁনভাঙ্গা বাজারে আরেকটি পথসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ লিয়াকত হাসান, সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামসু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ, যুবদল আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক চৌধুরীসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এদিন মাধবপুর চৌমুহনী ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও বিশিষ্ট পীর সৈয়দ যুবায়ের কামাল। এ সময় সৈয়দ যুবায়ের কামাল বলেন, বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল একজন আল্লাহ ও রাসুলপ্রেমী, খাঁটি সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষ। তিনি বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এছাড়া চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি চা বাগানে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালান সৈয়দ শাফকাত আহমেদ।
নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















