ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

চুনারুঘাটে তাহেরীর পরিকল্পিত অপপ্রচার ফাঁদে পা দেয়নি ভোটাররা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভোটার, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি—প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর কিছু সমর্থক রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গুজব, মিথ্যা ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত না হয়ে বরং আগের চেয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক ভূমিকা পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও, ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেসব পোস্টে দাবি করা হয়, নির্দিষ্ট এক প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইসলামী সুন্নি ফ্রন্টের আলোচিত বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে এসব দাবির কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

চুনারুঘাট উপজেলার সাঁটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল হক জানান, রোববার দুপুরে ওই এলাকায় একটি প্রার্থীর পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল। এ সময় গিয়াস উদ্দিন তাহেরি ও তাঁর অনুসারীরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সেখানে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তাঁর দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি ঘটনা, যার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায় করা। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে বাধা দেননি।

চুনারুঘাটের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রিপন বলেন, “শুরুর দিকে আমরাও ভেবেছিলাম হয়তো সত্যিই কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি, ঘটনার ভিডিওগুলো সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড মূলত ভোটের মাঠ অশান্ত করার অপচেষ্টা।”

স্থানীয় তরুণ ভোটার মোশারফ বলেন, “কিছু লোক নিজেরাই ঝামেলা তৈরি করে সেটাকে রাজনৈতিক নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু এখন আমরা আর সহজে গুজবে বিশ্বাস করি না—তথ্য যাচাই করি।”

চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে এ ধরনের নাটক দেখা গেছে। তবে এবার ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন, শিক্ষিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ায় তারা সহজে বিভ্রান্ত হচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, অপপ্রচার ও গুজব নির্বাচনী সংস্কৃতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। প্রার্থীদের উচিত মিথ্যা নাটক বা গুজবের আশ্রয় না নিয়ে কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা।

চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। কিন্তু একজন প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকরা ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তবে জনগণ এসব অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

চুনারুঘাটে তাহেরীর পরিকল্পিত অপপ্রচার ফাঁদে পা দেয়নি ভোটাররা

আপডেট সময় ০৯:৩২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভোটার, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি—প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর কিছু সমর্থক রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে গুজব, মিথ্যা ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত না হয়ে বরং আগের চেয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক ভূমিকা পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও, ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেসব পোস্টে দাবি করা হয়, নির্দিষ্ট এক প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইসলামী সুন্নি ফ্রন্টের আলোচিত বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে এসব দাবির কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

চুনারুঘাট উপজেলার সাঁটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল হক জানান, রোববার দুপুরে ওই এলাকায় একটি প্রার্থীর পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল। এ সময় গিয়াস উদ্দিন তাহেরি ও তাঁর অনুসারীরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সেখানে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তাঁর দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি ঘটনা, যার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায় করা। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে বাধা দেননি।

চুনারুঘাটের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রিপন বলেন, “শুরুর দিকে আমরাও ভেবেছিলাম হয়তো সত্যিই কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি, ঘটনার ভিডিওগুলো সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড মূলত ভোটের মাঠ অশান্ত করার অপচেষ্টা।”

স্থানীয় তরুণ ভোটার মোশারফ বলেন, “কিছু লোক নিজেরাই ঝামেলা তৈরি করে সেটাকে রাজনৈতিক নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু এখন আমরা আর সহজে গুজবে বিশ্বাস করি না—তথ্য যাচাই করি।”

চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে এ ধরনের নাটক দেখা গেছে। তবে এবার ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন, শিক্ষিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ায় তারা সহজে বিভ্রান্ত হচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, অপপ্রচার ও গুজব নির্বাচনী সংস্কৃতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। প্রার্থীদের উচিত মিথ্যা নাটক বা গুজবের আশ্রয় না নিয়ে কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা।

চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। কিন্তু একজন প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকরা ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তবে জনগণ এসব অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন।”