ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে Logo লাখাইয়ের হাওরে কচুরিপানার জট, বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক Logo সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo গাঁজা সেবন ও চুরির অভিযোগে লাখাইয়ে যুবক গ্রেপ্তার Logo জামালপুরে জলাবদ্ধতায় তিন বছরে শেষ ১৩৭ মাতৃ লিচুগাছ, সরকারি উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন Logo জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে কামরুল ইসলাম সভাপতি, জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক Logo হবিগঞ্জে হামলায় দৃষ্টিশক্তি হারানো আলিফকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির Logo ঢামেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মির্জা আব্বাস Logo ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক নয়, ছড়ানো তথ্য ভুয়া Logo তেলিয়াপাড়া চা বাগানে গণবিক্ষোভ, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি

মোল্লা থেকে সৈয়দ বনে যাওয়া ছদ্দবেশী কে এই আশিক মোল্লা

হবিগঞ্জ চুনারুঘাট প্রতিনিধি:

মোল্লা থেকে সৈয়দ বনে যাওয়া ছদ্দবেশী আশিক মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, একসময় তিনি চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তার দুই ভাইয়েরও ছাত্রলীগ রাজনীতির সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস রয়েছে। বড় ভাই শাহজাহান মোল্লা ১৯৯৮ সালে চুনারুঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং অপর ভাই সুমন মোল্লা মিরাশি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দুজনই পরবর্তীতে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, শাহজাহান মোল্লা আওয়ামী সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় চুনারুঘাটে দলীয় বিভিন্ন সভা-সমাবেশের আয়োজন করতেন। তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সাবেক ছাত্রলীগের এই তিন ভাই এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে বহাল তবিয়তে চলাফেরা করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক ওরফে আশিক মোল্লার বিরুদ্ধে বন বিভাগের গাছ পাচারের গাড়ি আটক করে অর্থ আদায় ও পরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, তিনি গাছ পাচারে সহযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, আশিক মোল্লা চুনারুঘাট উপজেলার বড়আব্দা গ্রামের ইদ্রিছ মেস্তরের ছেলে। তিনি একসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং সেই সময় বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সঙ্গেও তার নাম জড়ায় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে নাম পরিবর্তন করে সৈয়দ আশিক পরিচয়ে তিনি বনবিভাগে চাকরি নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে যোগ দেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বড় তাকিয়া বিটে দায়িত্ব পালনকালে উপকারভোগীদের অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তাকে বদলি করা হয়। এরপর টেকনাফ ও সুন্দরবন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

সাম্প্রতিক সময়ে হবিগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক গণশুনানিতে গাছ চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

সচেতন মহলের দাবি, সৈয়দ আশিক দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বন উজাড়ে সহযোগিতা করেছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে

error:

মোল্লা থেকে সৈয়দ বনে যাওয়া ছদ্দবেশী কে এই আশিক মোল্লা

আপডেট সময় ০২:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জ চুনারুঘাট প্রতিনিধি:

মোল্লা থেকে সৈয়দ বনে যাওয়া ছদ্দবেশী আশিক মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, একসময় তিনি চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তার দুই ভাইয়েরও ছাত্রলীগ রাজনীতির সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস রয়েছে। বড় ভাই শাহজাহান মোল্লা ১৯৯৮ সালে চুনারুঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং অপর ভাই সুমন মোল্লা মিরাশি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দুজনই পরবর্তীতে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, শাহজাহান মোল্লা আওয়ামী সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় চুনারুঘাটে দলীয় বিভিন্ন সভা-সমাবেশের আয়োজন করতেন। তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সাবেক ছাত্রলীগের এই তিন ভাই এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে বহাল তবিয়তে চলাফেরা করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক ওরফে আশিক মোল্লার বিরুদ্ধে বন বিভাগের গাছ পাচারের গাড়ি আটক করে অর্থ আদায় ও পরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, তিনি গাছ পাচারে সহযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, আশিক মোল্লা চুনারুঘাট উপজেলার বড়আব্দা গ্রামের ইদ্রিছ মেস্তরের ছেলে। তিনি একসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং সেই সময় বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সঙ্গেও তার নাম জড়ায় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে নাম পরিবর্তন করে সৈয়দ আশিক পরিচয়ে তিনি বনবিভাগে চাকরি নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে যোগ দেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বড় তাকিয়া বিটে দায়িত্ব পালনকালে উপকারভোগীদের অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তাকে বদলি করা হয়। এরপর টেকনাফ ও সুন্দরবন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

সাম্প্রতিক সময়ে হবিগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক গণশুনানিতে গাছ চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

সচেতন মহলের দাবি, সৈয়দ আশিক দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বন উজাড়ে সহযোগিতা করেছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।