ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

মাধবপুরে দুর্ধর্ষ মাটি খেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: অসহায় সাধারণ মানুষ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দুর্ধর্ষ একটি মাটি খেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে কৃষিজমির মালিকসহ সাধারণ মানুষ চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ফসলি ও উর্বর জমি কেটে অবাধে মাটি উত্তোলন চললেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না প্রশাসন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছাতিয়াইন রোডসংলগ্ন পলাশ ব্রিক ফিল্ড এলাকায় কামরুল মিয়া ও মোশারফের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ভেকু ব্যবহার করে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করে আসছে। একই সিন্ডিকেট ছাতিয়াইন বাজারসংলগ্ন পলাশ ব্রিক ফিল্ডের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নিয়মিত মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিন্ডিকেটটির একটি সশস্ত্র গুন্ডাবাহিনী রয়েছে। কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গেও তারা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমি থেকে এভাবে মাটি উত্তোলন পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ভূমি আইন ও দণ্ডবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ প্রকাশ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলে মাধবপুর থানার এসআই নাজমুল হাসান ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরদিন উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালালে সাময়িকভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়। পরে থানা পুলিশ ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় সিন্ডিকেটের মূলহোতা কামরুল মিয়া (৪০)কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির ও পুলিশকে হয়রানির হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে কামরুল মিয়া আবারও আগের মতো ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন ও পাচার শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুর খননের নামে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি অতিরিক্ত গভীরভাবে খনন করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুলিশ ব্যবস্থা নিলে তাদেরও চাপের মুখে পড়তে হয়। আমরা সাধারণ মানুষ কথা বলার সাহস পাই না।

এলাকাবাসীর দাবি, এই মাটি খেকো সিন্ডিকেটের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে অবৈধ মাটি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মোতাকাব্বির বাদী হয়ে কামরুল মিয়াকে প্রধান আসামি করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একটি ভেকু ও একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে দাঙ্গা, হত্যাচেষ্টা ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

মাধবপুরে দুর্ধর্ষ মাটি খেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: অসহায় সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় ০৯:২৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দুর্ধর্ষ একটি মাটি খেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে কৃষিজমির মালিকসহ সাধারণ মানুষ চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ফসলি ও উর্বর জমি কেটে অবাধে মাটি উত্তোলন চললেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না প্রশাসন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছাতিয়াইন রোডসংলগ্ন পলাশ ব্রিক ফিল্ড এলাকায় কামরুল মিয়া ও মোশারফের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ভেকু ব্যবহার করে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করে আসছে। একই সিন্ডিকেট ছাতিয়াইন বাজারসংলগ্ন পলাশ ব্রিক ফিল্ডের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নিয়মিত মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিন্ডিকেটটির একটি সশস্ত্র গুন্ডাবাহিনী রয়েছে। কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গেও তারা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমি থেকে এভাবে মাটি উত্তোলন পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ভূমি আইন ও দণ্ডবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ প্রকাশ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলে মাধবপুর থানার এসআই নাজমুল হাসান ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরদিন উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালালে সাময়িকভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়। পরে থানা পুলিশ ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় সিন্ডিকেটের মূলহোতা কামরুল মিয়া (৪০)কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির ও পুলিশকে হয়রানির হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে কামরুল মিয়া আবারও আগের মতো ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন ও পাচার শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুর খননের নামে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি অতিরিক্ত গভীরভাবে খনন করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুলিশ ব্যবস্থা নিলে তাদেরও চাপের মুখে পড়তে হয়। আমরা সাধারণ মানুষ কথা বলার সাহস পাই না।

এলাকাবাসীর দাবি, এই মাটি খেকো সিন্ডিকেটের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে অবৈধ মাটি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মোতাকাব্বির বাদী হয়ে কামরুল মিয়াকে প্রধান আসামি করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একটি ভেকু ও একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে দাঙ্গা, হত্যাচেষ্টা ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।