ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জামিন পেলেন ইনু-মেনন-মানিক Logo মাধবপুরে ঈদে বেড়াতে গিয়ে হামলার শিকার পরিবার, লুট স্বর্ণ ও নগদ অর্থ Logo মাধবপুরে সুরমা চা-বাগানে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, একজন গ্রেপ্তার Logo মাধবপুরে সোনাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে সেনাবাহিনীর অভিযান, জব্দ ৫ ড্রেজার Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ পরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আটক Logo সোনাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রতি খোলা চিঠি Logo হাফেজ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা: সাতাউকে মোহনীয় ইসলামী নাশিদ সন্ধ্যা Logo পদত্যাগ করলেন বিসিবির পরিচালক আমজাদ হোসেন Logo ইরান পরমাণু অস্ত্র না বানাতে সম্মত হয়েছে: ট্রাম্প

মাধবপুরে আমন ধানে উৎপাদনে বিপর্যয়, কৃষকদের আহাজারি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমের আমন চাষে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের শত শত কৃষক। বীজ সংকট, বাজারে নিম্নমানের বীজ ছড়িয়ে পড়া, অঙ্কুরোদগম কম হওয়া এবং জমিতে দুর্বল গাছ দাঁড়ানোর কারণে এ বছর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ব্যয় বাড়লেও উৎপাদন অর্ধেকেরও কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ—এমনকি আগামী মৌসুমে ধান আবাদ করা নিয়েও তারা শঙ্কায় পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক সালাউদ্দিন জানান, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। অথচ ধান কাটার পর সব মিলিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১২ মণ ধান। তিনি বলেন, “আমাদের মতো কৃষকের জন্য এটা মারাত্মক ক্ষতি। এত পরিশ্রম করে লোকসান গোনার জন্য কি চাষ করব?”

জগদীশপুর ইউনিয়নের কৃষক হারুন মিয়া বলেন, বাজার থেকে যে বীজ কিনেছেন, তার বেশিরভাগই ছিল নিম্নমানের। বীজতলায় চারা দুর্বল ছিল, মাঠে নেয়ার পর অনেক জায়গায় শীষ ধরে না। “আমার ৪ বিঘা জমিতে গত বছর ১৮ মণ পেয়েছিলাম। এবার সব মিলিয়ে ৮–৯ মণ পেয়েছি। এতে শ্রমিকের খরচই তুলতে পারিনি।”

নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখন বাজারে কোনটা আসল বীজ, কোনটা নকল—বুঝে ওঠা কঠিন। অনেক সময় আমরা কম দামে বীজ কিনে ক্ষতির মুখে পড়ি। এই অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক ধান চাষ করতে চায় না, এটা স্পষ্ট।”

বহরা ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার বলেন, “এই বছর ধানের শীষ ঠিকমতো আসেইনি। জমির সার, পানি, সবকিছুর ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু ফলন এত কম যে খরচ উঠে না। কৃষির এ অবস্থায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।”

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ধানের গাছ বড় হলেও শীষে দানা হয়নি। কোথাও রোগবালাইয়ের আক্রমণ, আবার কোথাও গাছ শুকিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে ধানের উৎপাদন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বীজ বাজারে কোনোরকম তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ বিক্রি করছেন। এসব বীজে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কম, রোগবালাই বেশি এবং গাছ দুর্বল হয়। এর ফলে উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।

কৃষক আমজাদ মিয়া বলেন, “আগে আমরা সরকারি কিংবা পরিচ

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

জামিন পেলেন ইনু-মেনন-মানিক

error:

মাধবপুরে আমন ধানে উৎপাদনে বিপর্যয়, কৃষকদের আহাজারি

আপডেট সময় ০৭:৩৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমের আমন চাষে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের শত শত কৃষক। বীজ সংকট, বাজারে নিম্নমানের বীজ ছড়িয়ে পড়া, অঙ্কুরোদগম কম হওয়া এবং জমিতে দুর্বল গাছ দাঁড়ানোর কারণে এ বছর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ব্যয় বাড়লেও উৎপাদন অর্ধেকেরও কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ—এমনকি আগামী মৌসুমে ধান আবাদ করা নিয়েও তারা শঙ্কায় পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক সালাউদ্দিন জানান, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। অথচ ধান কাটার পর সব মিলিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১২ মণ ধান। তিনি বলেন, “আমাদের মতো কৃষকের জন্য এটা মারাত্মক ক্ষতি। এত পরিশ্রম করে লোকসান গোনার জন্য কি চাষ করব?”

জগদীশপুর ইউনিয়নের কৃষক হারুন মিয়া বলেন, বাজার থেকে যে বীজ কিনেছেন, তার বেশিরভাগই ছিল নিম্নমানের। বীজতলায় চারা দুর্বল ছিল, মাঠে নেয়ার পর অনেক জায়গায় শীষ ধরে না। “আমার ৪ বিঘা জমিতে গত বছর ১৮ মণ পেয়েছিলাম। এবার সব মিলিয়ে ৮–৯ মণ পেয়েছি। এতে শ্রমিকের খরচই তুলতে পারিনি।”

নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখন বাজারে কোনটা আসল বীজ, কোনটা নকল—বুঝে ওঠা কঠিন। অনেক সময় আমরা কম দামে বীজ কিনে ক্ষতির মুখে পড়ি। এই অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক ধান চাষ করতে চায় না, এটা স্পষ্ট।”

বহরা ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার বলেন, “এই বছর ধানের শীষ ঠিকমতো আসেইনি। জমির সার, পানি, সবকিছুর ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু ফলন এত কম যে খরচ উঠে না। কৃষির এ অবস্থায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।”

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ধানের গাছ বড় হলেও শীষে দানা হয়নি। কোথাও রোগবালাইয়ের আক্রমণ, আবার কোথাও গাছ শুকিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে ধানের উৎপাদন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বীজ বাজারে কোনোরকম তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ বিক্রি করছেন। এসব বীজে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কম, রোগবালাই বেশি এবং গাছ দুর্বল হয়। এর ফলে উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।

কৃষক আমজাদ মিয়া বলেন, “আগে আমরা সরকারি কিংবা পরিচ