ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

মাধবপুরে আমন ধানে উৎপাদনে বিপর্যয়, কৃষকদের আহাজারি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমের আমন চাষে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের শত শত কৃষক। বীজ সংকট, বাজারে নিম্নমানের বীজ ছড়িয়ে পড়া, অঙ্কুরোদগম কম হওয়া এবং জমিতে দুর্বল গাছ দাঁড়ানোর কারণে এ বছর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ব্যয় বাড়লেও উৎপাদন অর্ধেকেরও কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ—এমনকি আগামী মৌসুমে ধান আবাদ করা নিয়েও তারা শঙ্কায় পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক সালাউদ্দিন জানান, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। অথচ ধান কাটার পর সব মিলিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১২ মণ ধান। তিনি বলেন, “আমাদের মতো কৃষকের জন্য এটা মারাত্মক ক্ষতি। এত পরিশ্রম করে লোকসান গোনার জন্য কি চাষ করব?”

জগদীশপুর ইউনিয়নের কৃষক হারুন মিয়া বলেন, বাজার থেকে যে বীজ কিনেছেন, তার বেশিরভাগই ছিল নিম্নমানের। বীজতলায় চারা দুর্বল ছিল, মাঠে নেয়ার পর অনেক জায়গায় শীষ ধরে না। “আমার ৪ বিঘা জমিতে গত বছর ১৮ মণ পেয়েছিলাম। এবার সব মিলিয়ে ৮–৯ মণ পেয়েছি। এতে শ্রমিকের খরচই তুলতে পারিনি।”

নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখন বাজারে কোনটা আসল বীজ, কোনটা নকল—বুঝে ওঠা কঠিন। অনেক সময় আমরা কম দামে বীজ কিনে ক্ষতির মুখে পড়ি। এই অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক ধান চাষ করতে চায় না, এটা স্পষ্ট।”

বহরা ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার বলেন, “এই বছর ধানের শীষ ঠিকমতো আসেইনি। জমির সার, পানি, সবকিছুর ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু ফলন এত কম যে খরচ উঠে না। কৃষির এ অবস্থায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।”

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ধানের গাছ বড় হলেও শীষে দানা হয়নি। কোথাও রোগবালাইয়ের আক্রমণ, আবার কোথাও গাছ শুকিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে ধানের উৎপাদন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বীজ বাজারে কোনোরকম তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ বিক্রি করছেন। এসব বীজে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কম, রোগবালাই বেশি এবং গাছ দুর্বল হয়। এর ফলে উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।

কৃষক আমজাদ মিয়া বলেন, “আগে আমরা সরকারি কিংবা পরিচ

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

মাধবপুরে আমন ধানে উৎপাদনে বিপর্যয়, কৃষকদের আহাজারি

আপডেট সময় ০৭:৩৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমের আমন চাষে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের শত শত কৃষক। বীজ সংকট, বাজারে নিম্নমানের বীজ ছড়িয়ে পড়া, অঙ্কুরোদগম কম হওয়া এবং জমিতে দুর্বল গাছ দাঁড়ানোর কারণে এ বছর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ব্যয় বাড়লেও উৎপাদন অর্ধেকেরও কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ—এমনকি আগামী মৌসুমে ধান আবাদ করা নিয়েও তারা শঙ্কায় পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক সালাউদ্দিন জানান, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। অথচ ধান কাটার পর সব মিলিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১২ মণ ধান। তিনি বলেন, “আমাদের মতো কৃষকের জন্য এটা মারাত্মক ক্ষতি। এত পরিশ্রম করে লোকসান গোনার জন্য কি চাষ করব?”

জগদীশপুর ইউনিয়নের কৃষক হারুন মিয়া বলেন, বাজার থেকে যে বীজ কিনেছেন, তার বেশিরভাগই ছিল নিম্নমানের। বীজতলায় চারা দুর্বল ছিল, মাঠে নেয়ার পর অনেক জায়গায় শীষ ধরে না। “আমার ৪ বিঘা জমিতে গত বছর ১৮ মণ পেয়েছিলাম। এবার সব মিলিয়ে ৮–৯ মণ পেয়েছি। এতে শ্রমিকের খরচই তুলতে পারিনি।”

নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখন বাজারে কোনটা আসল বীজ, কোনটা নকল—বুঝে ওঠা কঠিন। অনেক সময় আমরা কম দামে বীজ কিনে ক্ষতির মুখে পড়ি। এই অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক ধান চাষ করতে চায় না, এটা স্পষ্ট।”

বহরা ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার বলেন, “এই বছর ধানের শীষ ঠিকমতো আসেইনি। জমির সার, পানি, সবকিছুর ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু ফলন এত কম যে খরচ উঠে না। কৃষির এ অবস্থায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।”

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ধানের গাছ বড় হলেও শীষে দানা হয়নি। কোথাও রোগবালাইয়ের আক্রমণ, আবার কোথাও গাছ শুকিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে ধানের উৎপাদন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বীজ বাজারে কোনোরকম তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ বিক্রি করছেন। এসব বীজে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কম, রোগবালাই বেশি এবং গাছ দুর্বল হয়। এর ফলে উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।

কৃষক আমজাদ মিয়া বলেন, “আগে আমরা সরকারি কিংবা পরিচ