ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ
দুর্বল তদারকি ও ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

মাধবপুরে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের চেষ্টা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের অধীনে ২০২০ সালে অনুমোদিত শিমুলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর—যা নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বরাদ্দের অধিকাংশ অর্থ তুলে নিয়ে বছরের পর বছর কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টাও পুরো এলাকায় নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর রায় ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রথমদিকে কিছু কাজ এগোলেও পরে ঠিকাদার প্রায় পুরোপুরি কাজ বন্ধ রেখে দীর্ঘ সময় ‘নিখোঁজ’ ছিলেন। বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হওয়া ছাড়াও ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এমন অবহেলা শুধু দায়িত্বহীনতাই নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি চরম উদাসীনতা।

দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় অসমাপ্ত ভবনের বিভিন্ন অংশ ধুলোবালু জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষায় পানি ঢুকে দেয়াল ও পিলারে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষকরা জানান, “শুরুর সময় মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহারের আশ্বাস দিলেও এখন নিম্নমানের ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করার চেষ্টা করছে ঠিকাদার। এতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।” তারা আরও বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর প্রায় ১৫ দিন আগে আবারো আস্তরের কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের ইট এনে অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করা হয়। তারা নিষেধ করায় ওই ইট ব্যবহার করা হয়নি। কাজের সঠিক তদারকি থাকলে কাজের মান আরও ভালো হতো বলেও তারা মন্তব্য করেন। তাদের ধারণা, পাঁচ বছরে কাজের মাত্র ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। চারতলা ভবনের ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হলেও দরজা-জানালাসহ গুরুত্বপূর্ণ আনুষঙ্গিক কাজ এখনো বাকি।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আবুল কালাম বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকিতেই কাজ করছি। ইট নিম্নমানের হওয়ায় এগুলো কাজে লাগানো হবে না।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কয়েকবার সরেজমিনে গিয়ে দ্রুত ও মানসম্মত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছি। অমান্য করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্বীকার করেন, মাঠপর্যায়ের তদারকি আরও শক্তিশালী হলে অগ্রগতি বাড়ত।

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নবী রেজাউল বলেন, “মান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজে বা মানে অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

দুর্বল তদারকি ও ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

মাধবপুরে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের চেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

হবিগঞ্জের মাধবপুরে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের অধীনে ২০২০ সালে অনুমোদিত শিমুলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর—যা নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বরাদ্দের অধিকাংশ অর্থ তুলে নিয়ে বছরের পর বছর কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টাও পুরো এলাকায় নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর রায় ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রথমদিকে কিছু কাজ এগোলেও পরে ঠিকাদার প্রায় পুরোপুরি কাজ বন্ধ রেখে দীর্ঘ সময় ‘নিখোঁজ’ ছিলেন। বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হওয়া ছাড়াও ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এমন অবহেলা শুধু দায়িত্বহীনতাই নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি চরম উদাসীনতা।

দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় অসমাপ্ত ভবনের বিভিন্ন অংশ ধুলোবালু জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষায় পানি ঢুকে দেয়াল ও পিলারে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষকরা জানান, “শুরুর সময় মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহারের আশ্বাস দিলেও এখন নিম্নমানের ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করার চেষ্টা করছে ঠিকাদার। এতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।” তারা আরও বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর প্রায় ১৫ দিন আগে আবারো আস্তরের কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের ইট এনে অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করা হয়। তারা নিষেধ করায় ওই ইট ব্যবহার করা হয়নি। কাজের সঠিক তদারকি থাকলে কাজের মান আরও ভালো হতো বলেও তারা মন্তব্য করেন। তাদের ধারণা, পাঁচ বছরে কাজের মাত্র ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। চারতলা ভবনের ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হলেও দরজা-জানালাসহ গুরুত্বপূর্ণ আনুষঙ্গিক কাজ এখনো বাকি।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আবুল কালাম বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকিতেই কাজ করছি। ইট নিম্নমানের হওয়ায় এগুলো কাজে লাগানো হবে না।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কয়েকবার সরেজমিনে গিয়ে দ্রুত ও মানসম্মত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছি। অমান্য করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্বীকার করেন, মাঠপর্যায়ের তদারকি আরও শক্তিশালী হলে অগ্রগতি বাড়ত।

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নবী রেজাউল বলেন, “মান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজে বা মানে অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”