ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে হাইমচরে বিএনপির ১৩০ নেতাকর্মীর পদত্যাগ Logo শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় Logo নবীগঞ্জে মুফতি আব্দুল কাইয়ুমকে সম্মাননা স্মারক প্রদান Logo লাখাইয়ে ইয়াবা বিক্রিতে বাধা, প্রতিবন্ধী যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতিয়ার মিয়া Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর হামলা, কয়েকটি বাড়ির মালামালে আগুন Logo হাইমচরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসনের উদ্বোধন Logo হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুকের আয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অসহায় রাশিদার নতুন ঘর নির্মাণ করলেন শান্ত শাহ Logo লাখাই থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শরীফ আহমেদ

লাখাইয়ে ৪২ কেজিতে মন ধান কেনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষক, প্রতিবাদে সরব এলাকাবাসী

পারভেজ হাসান, লাখাই থেকে:
লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ধান কেনাবেচায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এক অদ্ভুত নিয়ম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় পাইকাররা ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪২ কেজিতে এক মন ধান কিনছেন, যা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দেশের সর্বত্রই ৪০ কেজিতে এক মন হিসেবে ধান বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু লাখাইয়ের বাজারগুলোতে পাইকাররা প্রতি মনে ২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান নিচ্ছেন। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক হারুন বলেন, “আমি আজ বুল্লা বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে জানতে পারলাম ৪২ কেজিতে এক মন। বাধ্য হয়ে আমাকে এ নিয়মেই ধান বিক্রি করতে হলো। এটা আমাদের জন্য চরম অন্যায়।”

আরেক কৃষক মারিফত হাসান জানান, কিছুদিন আগে তিনি ৭০ মন ধান বিক্রি করেছেন এবং প্রতি মনে ২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান দিতে হয়েছে। “আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন পাইকাররা। পরিশ্রম করে উৎপাদিত ধান থেকে জোর করে অতিরিক্ত ২ কেজি নেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।”

কৃষক মামুনুর রশিদ বলেন, “আজ আমি সাড়ে ১৩ মন ধান বিক্রি করেছি। ৪২ কেজি মনে বিক্রি করার কারণে আমার কাছ থেকে ২৭ কেজি ধান বেশি নেওয়া হয়েছে। এই বাড়তি ধান আমার পরিশ্রমের ফসল, যা আমাকে জোর করে দিতে হয়েছে।”

লাখাইয়ের কৃষক ও এলাকাবাসী এই প্রথার অবসান চান। তাদের প্রশ্ন—যেখানে ৮০ তোলায় এক সের এবং ৪০ সেরে এক মন নির্ধারিত, সেখানে কেন ৪২ কেজিকে এক মন ধরা হচ্ছে? তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই অনিয়ম বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে হাইমচরে বিএনপির ১৩০ নেতাকর্মীর পদত্যাগ

error:

লাখাইয়ে ৪২ কেজিতে মন ধান কেনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষক, প্রতিবাদে সরব এলাকাবাসী

আপডেট সময় ১২:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

পারভেজ হাসান, লাখাই থেকে:
লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ধান কেনাবেচায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এক অদ্ভুত নিয়ম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় পাইকাররা ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪২ কেজিতে এক মন ধান কিনছেন, যা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দেশের সর্বত্রই ৪০ কেজিতে এক মন হিসেবে ধান বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু লাখাইয়ের বাজারগুলোতে পাইকাররা প্রতি মনে ২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান নিচ্ছেন। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক হারুন বলেন, “আমি আজ বুল্লা বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে জানতে পারলাম ৪২ কেজিতে এক মন। বাধ্য হয়ে আমাকে এ নিয়মেই ধান বিক্রি করতে হলো। এটা আমাদের জন্য চরম অন্যায়।”

আরেক কৃষক মারিফত হাসান জানান, কিছুদিন আগে তিনি ৭০ মন ধান বিক্রি করেছেন এবং প্রতি মনে ২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান দিতে হয়েছে। “আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন পাইকাররা। পরিশ্রম করে উৎপাদিত ধান থেকে জোর করে অতিরিক্ত ২ কেজি নেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।”

কৃষক মামুনুর রশিদ বলেন, “আজ আমি সাড়ে ১৩ মন ধান বিক্রি করেছি। ৪২ কেজি মনে বিক্রি করার কারণে আমার কাছ থেকে ২৭ কেজি ধান বেশি নেওয়া হয়েছে। এই বাড়তি ধান আমার পরিশ্রমের ফসল, যা আমাকে জোর করে দিতে হয়েছে।”

লাখাইয়ের কৃষক ও এলাকাবাসী এই প্রথার অবসান চান। তাদের প্রশ্ন—যেখানে ৮০ তোলায় এক সের এবং ৪০ সেরে এক মন নির্ধারিত, সেখানে কেন ৪২ কেজিকে এক মন ধরা হচ্ছে? তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই অনিয়ম বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।