ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

তিনটি সন্তান জন্মের পর দিশেহারা এক মা, সাহায্যের অপেক্ষায় অসহায় পরিবার

বাংলার খবর প্রতিনিধি, শেরপুর:
‘সবাই বলে দুইটা বাচ্চা দিয়ে দে, কিন্তু মা হয়ে সন্তান বিক্রি করা কি সম্ভব?’—এই প্রশ্ন করে চোখের জল মুছছিলেন মাত্র ২০ বছর বয়সী নাছিমা আক্তার। সদ্য তিন সন্তানের জন্ম দেওয়া এই মা আজ অসহায়ত্বের চরম সীমায়।

গত ১৪ জুন শেরপুর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম দেন দুই ছেলে ও এক মেয়েসন্তান। নাছিমার স্বামী ঢাকায় রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। সন্তান আসার আগে মাত্র ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গর্ভে এক নয়, তিন সন্তান থাকার খবর পেয়ে পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে উৎকণ্ঠা। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ধারদেনা করে ৪০ হাজার টাকায় অপারেশন করান তারা। এখন ঋণ আর অনিশ্চয়তায় ভরা জীবনে তিন নবজাতক যেন ভারী হয়ে উঠেছে।

সন্তানদের খাবার, চিকিৎসা ও যত্ন নেওয়ার সামর্থ্য নেই পরিবারটির। নাছিমা এখন আশ্রয় নিয়েছেন স্বামীর বড় ভাইয়ের ভাঙা ঘরে। নবজাতকদের দাদি খোরশেদা বেগম বলেন, ‘নাতিদের দুধ বা ওষুধ কিছুই জোটে না। মা নিজেই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম জানান, ‘একসঙ্গে তিন সন্তান পাওয়াটা যেন এই দরিদ্র পরিবারটির জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপ হয়ে উঠেছে। শিশুদের জীবন হুমকিতে পড়তে পারে যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।’

শেরপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘পরিবার চাইলে সরকারি সহায়তায় শেল্টার হোম বা বিকল্প ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব। আপনারা বিষয়টি জানালেন, আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এই অসহায় মা ও তিন শিশুর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহানুভূতিশীল মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে এলাকাবাসী। একটু সহযোগিতা পেলে বেঁচে যেতে পারে তিনটি নিষ্পাপ প্রাণ, আবার হাসতে পারে এক মায়ের মুখ।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

তিনটি সন্তান জন্মের পর দিশেহারা এক মা, সাহায্যের অপেক্ষায় অসহায় পরিবার

আপডেট সময় ০৭:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

বাংলার খবর প্রতিনিধি, শেরপুর:
‘সবাই বলে দুইটা বাচ্চা দিয়ে দে, কিন্তু মা হয়ে সন্তান বিক্রি করা কি সম্ভব?’—এই প্রশ্ন করে চোখের জল মুছছিলেন মাত্র ২০ বছর বয়সী নাছিমা আক্তার। সদ্য তিন সন্তানের জন্ম দেওয়া এই মা আজ অসহায়ত্বের চরম সীমায়।

গত ১৪ জুন শেরপুর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম দেন দুই ছেলে ও এক মেয়েসন্তান। নাছিমার স্বামী ঢাকায় রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। সন্তান আসার আগে মাত্র ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গর্ভে এক নয়, তিন সন্তান থাকার খবর পেয়ে পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে উৎকণ্ঠা। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ধারদেনা করে ৪০ হাজার টাকায় অপারেশন করান তারা। এখন ঋণ আর অনিশ্চয়তায় ভরা জীবনে তিন নবজাতক যেন ভারী হয়ে উঠেছে।

সন্তানদের খাবার, চিকিৎসা ও যত্ন নেওয়ার সামর্থ্য নেই পরিবারটির। নাছিমা এখন আশ্রয় নিয়েছেন স্বামীর বড় ভাইয়ের ভাঙা ঘরে। নবজাতকদের দাদি খোরশেদা বেগম বলেন, ‘নাতিদের দুধ বা ওষুধ কিছুই জোটে না। মা নিজেই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম জানান, ‘একসঙ্গে তিন সন্তান পাওয়াটা যেন এই দরিদ্র পরিবারটির জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপ হয়ে উঠেছে। শিশুদের জীবন হুমকিতে পড়তে পারে যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।’

শেরপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘পরিবার চাইলে সরকারি সহায়তায় শেল্টার হোম বা বিকল্প ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব। আপনারা বিষয়টি জানালেন, আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এই অসহায় মা ও তিন শিশুর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহানুভূতিশীল মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে এলাকাবাসী। একটু সহযোগিতা পেলে বেঁচে যেতে পারে তিনটি নিষ্পাপ প্রাণ, আবার হাসতে পারে এক মায়ের মুখ।