
বাংলার খবর ডেস্ক: হবিগঞ্জের সাটিয়াজুরীতে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক রেলস্টেশন ভবন চালু না হওয়ায় অযত্ন ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার মানুষ।
ঢাকা-সিলেট রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটিতে যাত্রীসেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। তবে ভবন নির্মাণের পরও স্বাভাবিকভাবে চালু হয়নি স্টেশনটির কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন স্টেশনটি কার্যত পরিত্যক্ত থাকায় সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। পরিত্যক্ত ভবন থেকে বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার পাশাপাশি রাতের আঁধারে সেখানে অসামাজিক কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ রয়েছে। নির্জনতার সুযোগে মাদকসেবীদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
২০১৯ সালে চালক ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে স্থানীয় ট্রেন ‘সুরমা মেল’ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সাটিয়াজুরী স্টেশনে আর কোনো ট্রেন নিয়মিত না থামায় রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের মতে, সাটিয়াজুরী রেলস্টেশন পুনরায় চালু হলে বাহুবল ও চুনারুঘাটের মানুষের কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনেও রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বলেন, ইঞ্জিন স্বল্পতার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর থেকে সাটিয়াজুরী স্টেশনে কোনো ট্রেন দাঁড়ায় না।
স্টেশন ভবন নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর সেটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় দ্রুত ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















