
বাংলার খবর ডেস্ক: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে প্রার্থিতা, মনোনয়ন, নির্বাচনী অপরাধ এবং ভোটের অনিয়ম মোকাবিলায় ইসির ক্ষমতা আরও জোরালো হতে পারে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার কোনো বিধান রাখা হয়নি। তবে প্রার্থীদের হলফনামায় তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রদান বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে ইসি। এতে নির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া দ্বৈত নাগরিক এবং ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নির্বাচনী অনিয়ম ঠেকাতেও ইসির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট নয়, প্রয়োজনে পুরো নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। পলাতক ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করার উদ্দেশ্যে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রার্থীদের একাধিক স্থানে কাগজে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি নির্বাচনী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান করার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে নির্বাচনী অনিয়ম ও অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশোধনীগুলো কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















