ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, ইসির ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলার খবর ডেস্ক: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে প্রার্থিতা, মনোনয়ন, নির্বাচনী অপরাধ এবং ভোটের অনিয়ম মোকাবিলায় ইসির ক্ষমতা আরও জোরালো হতে পারে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার কোনো বিধান রাখা হয়নি। তবে প্রার্থীদের হলফনামায় তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রদান বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে ইসি। এতে নির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া দ্বৈত নাগরিক এবং ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নির্বাচনী অনিয়ম ঠেকাতেও ইসির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট নয়, প্রয়োজনে পুরো নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। পলাতক ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করার উদ্দেশ্যে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রার্থীদের একাধিক স্থানে কাগজে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি নির্বাচনী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান করার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে নির্বাচনী অনিয়ম ও অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশোধনীগুলো কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, ইসির ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৮:০৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলার খবর ডেস্ক: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে প্রার্থিতা, মনোনয়ন, নির্বাচনী অপরাধ এবং ভোটের অনিয়ম মোকাবিলায় ইসির ক্ষমতা আরও জোরালো হতে পারে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার কোনো বিধান রাখা হয়নি। তবে প্রার্থীদের হলফনামায় তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রদান বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে ইসি। এতে নির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া দ্বৈত নাগরিক এবং ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নির্বাচনী অনিয়ম ঠেকাতেও ইসির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট নয়, প্রয়োজনে পুরো নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। পলাতক ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করার উদ্দেশ্যে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রার্থীদের একাধিক স্থানে কাগজে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি নির্বাচনী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান করার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে নির্বাচনী অনিয়ম ও অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশোধনীগুলো কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হবে।