ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে চেক ডিজঅনার মামলায় ২০ লাখ টাকা জরিমানাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার Logo ফেক আইডি খুলে অপপ্রচার, লাখাইয়ে সালিশে ক্ষমা চাইল অভিযুক্তের পরিবার Logo দুর্গাপূজায় সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা, দায়িত্বে এসআরবির ৬ হাজারের বেশি সদস্য Logo নাসিরনগরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্গাপূজার উপহার বিতরণ Logo হাইমচরে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: ৩০ জেলের কারাদণ্ড Logo সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও স্বজনদের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ Logo যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা জোরদার, বিশেষ প্রটোকলের ব্যবস্থা Logo মাধবপুরে দুর্গাপূজার রোডম্যাপে কয়েকটি এলাকা বাদ, ক্ষোভ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন Logo জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, আহত ২ পুলিশ সদস্য Logo লাখাইয়ে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ উদযাপনে মতবিনিময় সভা

লাখাইয়ের হাওর-বিলে চায়না দুয়ারী ও মিউজিক জালের মহোৎসব, হুমকিতে দেশি মাছ ও জলজ প্রাণী

পারভেজ হাসান, লাখাই উপজেলা প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওর, বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও মিউজিক জালের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নির্বিচারে এসব ধ্বংসাত্মক জাল ব্যবহারের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, মাছের পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নিধন হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে দেশি প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মৎস্যজীবীরা।

সরেজমিনে উপজেলার করাব ইউনিয়নের আগাপুর, গুণিপুর ও সিংহ গ্রামের বিভিন্ন বন্দ, খাল ও হাওর ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারী ও মিউজিক জাল পেতে রাখা হয়েছে। বর্ষার পানি কমতে শুরু করায় হাওরের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব জালের ব্যবহার আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জালে শুধু বড় মাছই নয়, মাছের পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট জলজ প্রাণীও আটকা পড়ছে। ফলে প্রজনন মৌসুমে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী জানান, উপজেলার করাব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি অন্যান্য হাওর ও বিলেও একইভাবে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্রুত এসব জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে আগামী দিনে দেশি মাছের প্রাপ্যতা আরও কমে যেতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, চায়না দুয়ারী ও মিউজিক জালের মতো ক্ষতিকর জালের কারণে জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও এসব জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এতে লাখাইয়ের জলজ জীববৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু জাল জব্দ করলেই হবে না; এসব জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কনিক চন্দ্র শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। এসব অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুব শিগগিরই সরেজমিনে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হাওর-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং দেশি মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে চেক ডিজঅনার মামলায় ২০ লাখ টাকা জরিমানাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

error:

লাখাইয়ের হাওর-বিলে চায়না দুয়ারী ও মিউজিক জালের মহোৎসব, হুমকিতে দেশি মাছ ও জলজ প্রাণী

আপডেট সময় ০৮:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই উপজেলা প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওর, বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী ও মিউজিক জালের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নির্বিচারে এসব ধ্বংসাত্মক জাল ব্যবহারের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, মাছের পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নিধন হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে দেশি প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মৎস্যজীবীরা।

সরেজমিনে উপজেলার করাব ইউনিয়নের আগাপুর, গুণিপুর ও সিংহ গ্রামের বিভিন্ন বন্দ, খাল ও হাওর ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারী ও মিউজিক জাল পেতে রাখা হয়েছে। বর্ষার পানি কমতে শুরু করায় হাওরের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব জালের ব্যবহার আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জালে শুধু বড় মাছই নয়, মাছের পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট জলজ প্রাণীও আটকা পড়ছে। ফলে প্রজনন মৌসুমে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী জানান, উপজেলার করাব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি অন্যান্য হাওর ও বিলেও একইভাবে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্রুত এসব জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে আগামী দিনে দেশি মাছের প্রাপ্যতা আরও কমে যেতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, চায়না দুয়ারী ও মিউজিক জালের মতো ক্ষতিকর জালের কারণে জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও এসব জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এতে লাখাইয়ের জলজ জীববৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু জাল জব্দ করলেই হবে না; এসব জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কনিক চন্দ্র শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। এসব অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুব শিগগিরই সরেজমিনে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হাওর-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং দেশি মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।