ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দাখিলে মাধবপুর উপজেলা সেরা কমলপুর হযরত শাহজালাল (রহ.) আলিম মাদ্রাসা Logo মাধবপুরে ১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ নেই Logo লাখাইয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি সুপারভাইজার নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে ক্ষোভ Logo টাকার অভাবে চিকিৎসা সংকটে আগুনে পোড়া কিশোরী ইভা Logo এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন ফলাফল Logo সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ১৬ বাংলাদেশি নিহত Logo লাখাই প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ধলাই মিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo ১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রেতা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার Logo প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতে ইসলামের ৯ দফা দাবি পেশ Logo রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল

টাকার অভাবে চিকিৎসা সংকটে আগুনে পোড়া কিশোরী ইভা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১১ নম্বর বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা ছালেহাবাদ গ্রামের কিশোরী মোছাঃ ইসরাত জেরিন (ইভা) অগ্নিদগ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসহনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আগুনে তার মুখমণ্ডলের বড় একটি অংশ ঝলসে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় দরিদ্র পরিবারটি বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় ইভার মুখে গুরুতর অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অর্থের অভাবে ইভার চিকিৎসা কার্যক্রম থমকে আছে।

ইভার বাবা মোহাম্মদ নানু মিয়া বলেন, মেয়ের মুখের দিকে তাকালে তার বুক ফেটে যায়। মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করলেও বর্তমানে আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের সহযোগিতা পেলে তার মেয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইভার মা জুসনা বেগম বলেন, তার মেয়ে আগে খুব হাসিখুশি ছিল। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর সে আয়নায় নিজের মুখ দেখতেও চায় না। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।

কিশোরী ইভা জানায়, সে সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে যেতে চায় এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে চায়। কিন্তু অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামর্থ্যবান মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সে আবার নতুন করে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে বলে আশা করছে।

মানবাধিকার কর্মী শেখ ইমন বলেন, ইভার উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে অগ্নিদগ্ধ এই কিশোরীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ সহজ হবে।

বর্তমানে ইভা ও তার পরিবার চিকিৎসা ব্যয় বহনের জন্য মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় রয়েছে। সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে কিশোরী ইভার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

দাখিলে মাধবপুর উপজেলা সেরা কমলপুর হযরত শাহজালাল (রহ.) আলিম মাদ্রাসা

error:

টাকার অভাবে চিকিৎসা সংকটে আগুনে পোড়া কিশোরী ইভা

আপডেট সময় ০৪:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১১ নম্বর বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা ছালেহাবাদ গ্রামের কিশোরী মোছাঃ ইসরাত জেরিন (ইভা) অগ্নিদগ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসহনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আগুনে তার মুখমণ্ডলের বড় একটি অংশ ঝলসে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় দরিদ্র পরিবারটি বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় ইভার মুখে গুরুতর অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অর্থের অভাবে ইভার চিকিৎসা কার্যক্রম থমকে আছে।

ইভার বাবা মোহাম্মদ নানু মিয়া বলেন, মেয়ের মুখের দিকে তাকালে তার বুক ফেটে যায়। মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করলেও বর্তমানে আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের সহযোগিতা পেলে তার মেয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইভার মা জুসনা বেগম বলেন, তার মেয়ে আগে খুব হাসিখুশি ছিল। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর সে আয়নায় নিজের মুখ দেখতেও চায় না। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।

কিশোরী ইভা জানায়, সে সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে যেতে চায় এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে চায়। কিন্তু অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামর্থ্যবান মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সে আবার নতুন করে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে বলে আশা করছে।

মানবাধিকার কর্মী শেখ ইমন বলেন, ইভার উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে অগ্নিদগ্ধ এই কিশোরীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ সহজ হবে।

বর্তমানে ইভা ও তার পরিবার চিকিৎসা ব্যয় বহনের জন্য মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় রয়েছে। সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে কিশোরী ইভার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।