ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় Logo নবীগঞ্জে মুফতি আব্দুল কাইয়ুমকে সম্মাননা স্মারক প্রদান Logo লাখাইয়ে ইয়াবা বিক্রিতে বাধা, প্রতিবন্ধী যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতিয়ার মিয়া Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর হামলা, কয়েকটি বাড়ির মালামালে আগুন Logo হাইমচরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসনের উদ্বোধন Logo হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুকের আয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অসহায় রাশিদার নতুন ঘর নির্মাণ করলেন শান্ত শাহ Logo লাখাই থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শরীফ আহমেদ Logo দোয়ারাবাজারে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই—জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিংগনের এমন দাবির পর হামলার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট।

দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পদ-পদবিতে থাকা অন্তত চারজনকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে শনাক্ত ব্যক্তিরা হলেন—সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আল সাইমুম আহাদ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাক্কির হোসেন ইমন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম ইমন এবং হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন অনি। স্থানীয়ভাবে তারা বিএনপি নেতা জি কে গউছের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ডিসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় আল সাইমুম আহাদকে গালিগালাজ করতে করতে এনসিপির নেতা-কর্মীদের বহনকারী একটি গাড়িতে হামলা চালাতে দেখা যায়। একই সঙ্গে তিনি হামলার ভিডিও ধারণ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাড়ি থেকে চালককে নামিয়ে রড দিয়ে হামলা করেন আসিফুল ইসলাম ইমন ও মুজাক্কির হোসেন ইমন। একপর্যায়ে তারা রড দিয়ে গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে নাজমুল হোসেন অনিকেও চালকের ওপর রড দিয়ে হামলা করতে দেখা যায়। তিনি এনসিপির আরেক কর্মীকেও রড দিয়ে মারধর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হামলার সূত্রপাত নিয়ে আল সাইমুম আহাদ নিজের ফেসবুক পোস্টে ভিন্ন দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, আজমিরীগঞ্জের সমাবেশে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি নেতা জি কে গউছ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেন। পরে হবিগঞ্জের সমাবেশেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আল সাইমুম আহাদ আরও দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নেতা-কর্মীদের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় না জড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার দাবি, সমাবেশস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থানের সময় এনসিপির একটি গাড়ি তাদের সামনে আসে। প্রথমে তারা গাড়িটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রয়েছেন বলে ধারণা করে তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন।

আল সাইমুমের দাবি, গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার সময় তাদের দুই নেতা-কর্মীকে ধাক্কা দেয় এবং তিনিও পায়ে আঘাত পান। এরপর আশপাশের লোকজন গাড়িটিকে ধাওয়া করে। পরে এনসিপির নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ছাত্রদল প্রতিরোধ গড়ে তোলে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মুজাক্কির হোসেন ইমন হামলা-সংক্রান্ত একটি সংবাদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে ‘কেমন হলো বন্ধুরা’ লিখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ডিসেন্টের দাবি, ওই পোস্টের মন্তব্যে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতা-কর্মী হামলার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান।

এ ছাড়া মুজাক্কির হোসেন ইমনের অ্যাকাউন্টে হামলার একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখা একটি পোস্টের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি জুলাই বিপ্লব এবং হবিগঞ্জের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সম্মান ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করলে প্রতিবাদ করা হবে বলে মন্তব্য করেন।

দ্য ডিসেন্ট আরও দাবি করেছে, আসিফুল ইসলাম ইমন নিজের ফেসবুক ওয়ালে হামলার একাধিক ভিডিও শেয়ার করেছেন। ওই ভিডিওগুলোর কয়েকটিতে তাকেও হামলায় অংশ নিতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিংগন গণমাধ্যমে দাবি করেন, ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠন জড়িত নয়।

তার দাবি, এটি ছিল ‘উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাধারণ ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ এবং ‘অন্য একটি সংগঠনের সাজানো নাটক’।

এদিকে হামলার ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে যাদের শনাক্ত করার দাবি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আইনগত প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতির ওপরই বিষয়টির চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয়

error:

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

আপডেট সময় ০৯:১৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই—জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিংগনের এমন দাবির পর হামলার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট।

দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পদ-পদবিতে থাকা অন্তত চারজনকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে শনাক্ত ব্যক্তিরা হলেন—সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আল সাইমুম আহাদ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাক্কির হোসেন ইমন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম ইমন এবং হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন অনি। স্থানীয়ভাবে তারা বিএনপি নেতা জি কে গউছের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ডিসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় আল সাইমুম আহাদকে গালিগালাজ করতে করতে এনসিপির নেতা-কর্মীদের বহনকারী একটি গাড়িতে হামলা চালাতে দেখা যায়। একই সঙ্গে তিনি হামলার ভিডিও ধারণ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাড়ি থেকে চালককে নামিয়ে রড দিয়ে হামলা করেন আসিফুল ইসলাম ইমন ও মুজাক্কির হোসেন ইমন। একপর্যায়ে তারা রড দিয়ে গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে নাজমুল হোসেন অনিকেও চালকের ওপর রড দিয়ে হামলা করতে দেখা যায়। তিনি এনসিপির আরেক কর্মীকেও রড দিয়ে মারধর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হামলার সূত্রপাত নিয়ে আল সাইমুম আহাদ নিজের ফেসবুক পোস্টে ভিন্ন দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, আজমিরীগঞ্জের সমাবেশে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি নেতা জি কে গউছ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেন। পরে হবিগঞ্জের সমাবেশেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আল সাইমুম আহাদ আরও দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নেতা-কর্মীদের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় না জড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার দাবি, সমাবেশস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থানের সময় এনসিপির একটি গাড়ি তাদের সামনে আসে। প্রথমে তারা গাড়িটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রয়েছেন বলে ধারণা করে তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন।

আল সাইমুমের দাবি, গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার সময় তাদের দুই নেতা-কর্মীকে ধাক্কা দেয় এবং তিনিও পায়ে আঘাত পান। এরপর আশপাশের লোকজন গাড়িটিকে ধাওয়া করে। পরে এনসিপির নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ছাত্রদল প্রতিরোধ গড়ে তোলে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মুজাক্কির হোসেন ইমন হামলা-সংক্রান্ত একটি সংবাদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে ‘কেমন হলো বন্ধুরা’ লিখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ডিসেন্টের দাবি, ওই পোস্টের মন্তব্যে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতা-কর্মী হামলার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান।

এ ছাড়া মুজাক্কির হোসেন ইমনের অ্যাকাউন্টে হামলার একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখা একটি পোস্টের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি জুলাই বিপ্লব এবং হবিগঞ্জের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সম্মান ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করলে প্রতিবাদ করা হবে বলে মন্তব্য করেন।

দ্য ডিসেন্ট আরও দাবি করেছে, আসিফুল ইসলাম ইমন নিজের ফেসবুক ওয়ালে হামলার একাধিক ভিডিও শেয়ার করেছেন। ওই ভিডিওগুলোর কয়েকটিতে তাকেও হামলায় অংশ নিতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিংগন গণমাধ্যমে দাবি করেন, ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠন জড়িত নয়।

তার দাবি, এটি ছিল ‘উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাধারণ ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ এবং ‘অন্য একটি সংগঠনের সাজানো নাটক’।

এদিকে হামলার ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে যাদের শনাক্ত করার দাবি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আইনগত প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতির ওপরই বিষয়টির চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে।