ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা, জানাল মোদি সরকার Logo ৫৫ বিজিবির অভিযানে ৬০ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ, জুলাই মাসে উদ্ধার ১৩২ কেজি Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

সরকারি রেট জানেন না কৃষি কর্মকর্তারা: লাখাইয়ে হারভেস্টার মালিকদের ‘অদৃশ্য হাতে’ পিষ্ট কৃষক

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আগাম বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। একদিকে ভারী বৃষ্টি আর বন্যার আতঙ্ক, অন্যদিকে ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টারের’ মালিকদের সিন্ডিকেটে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ কৃষক। সরকারিভাবে ধান কাটার রেট প্রতি কানি (৩০ শতাংশ) ১৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও যন্ত্র মালিকরা কৃষকদের জিম্মি করে আদায় করছে ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে, খোদ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের এই ‘গলাকাটা’ পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে মরিয়া কৃষকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে হারভেস্টার মালিকরা। সরকারি ভর্তুকি দিয়ে কেনা এসব যন্ত্র দিয়ে ধান কাটতে এলাকাভেদে অস্বাভাবিক হারে টাকা দাবি করা হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, হারভেস্টার মালিকদের এই বাড়তি টাকা আদায় যেন তাদের গলায় অদৃশ্য হাত দিয়ে চেপে ধরার মতো।

অবাক করার বিষয় হলো, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সরকারি রেট সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এমনকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলামও সরকারি রেট জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। কৃষকদের প্রশ্ন—উপজেলা কৃষি বিভাগ যদি ধান কাটার সরকারি হারই না জানে, তবে কৃষকের অধিকার রক্ষা হবে কীভাবে?

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বছর প্রতি কানি ধান কর্তনের সরকারি হার ১৭৫০ টাকা। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারিয়া আলম বলেন, “সরকারি রেটের চেয়ে বেশি টাকা নিলে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ দিতে হবে।”

তবে কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে তদারকি না করার সুযোগেই হারভেস্টার মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বন্যাকবলিত এই দুর্দিনে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাওয়ার মতো সময় বা মানসিক অবস্থা কৃষকদের নেই।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়ম কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কৃষকদের এই সংকটময় মুহূর্তে উপজেলা কৃষি বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী হারভেস্টার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা, জানাল মোদি সরকার

error:

সরকারি রেট জানেন না কৃষি কর্মকর্তারা: লাখাইয়ে হারভেস্টার মালিকদের ‘অদৃশ্য হাতে’ পিষ্ট কৃষক

আপডেট সময় ০৭:০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আগাম বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। একদিকে ভারী বৃষ্টি আর বন্যার আতঙ্ক, অন্যদিকে ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টারের’ মালিকদের সিন্ডিকেটে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ কৃষক। সরকারিভাবে ধান কাটার রেট প্রতি কানি (৩০ শতাংশ) ১৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও যন্ত্র মালিকরা কৃষকদের জিম্মি করে আদায় করছে ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে, খোদ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের এই ‘গলাকাটা’ পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে মরিয়া কৃষকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে হারভেস্টার মালিকরা। সরকারি ভর্তুকি দিয়ে কেনা এসব যন্ত্র দিয়ে ধান কাটতে এলাকাভেদে অস্বাভাবিক হারে টাকা দাবি করা হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, হারভেস্টার মালিকদের এই বাড়তি টাকা আদায় যেন তাদের গলায় অদৃশ্য হাত দিয়ে চেপে ধরার মতো।

অবাক করার বিষয় হলো, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সরকারি রেট সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এমনকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলামও সরকারি রেট জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। কৃষকদের প্রশ্ন—উপজেলা কৃষি বিভাগ যদি ধান কাটার সরকারি হারই না জানে, তবে কৃষকের অধিকার রক্ষা হবে কীভাবে?

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বছর প্রতি কানি ধান কর্তনের সরকারি হার ১৭৫০ টাকা। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারিয়া আলম বলেন, “সরকারি রেটের চেয়ে বেশি টাকা নিলে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ দিতে হবে।”

তবে কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে তদারকি না করার সুযোগেই হারভেস্টার মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বন্যাকবলিত এই দুর্দিনে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাওয়ার মতো সময় বা মানসিক অবস্থা কৃষকদের নেই।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়ম কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কৃষকদের এই সংকটময় মুহূর্তে উপজেলা কৃষি বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী হারভেস্টার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।