ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চান্দিনায় দুর্নীতি রোধে মাঠে এনসিপি, ইউনিয়ন পর্যায়ে হঠাৎ মনিটরিং Logo রেড সেল ইন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় ও প্রবাসী নতুন কমিটি গঠন Logo ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo বল টেম্পারিংয়ের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ফখর জামান Logo কুমিল্লার চান্দিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় লাখাইয়ের যুবক মোজাহিদের মৃত্যু Logo মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কে জলাবদ্ধতা, এক কিলোমিটার ড্রেইন নির্মাণের দাবি Logo মিরপুরে মহিলা কলেজের সামনে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী Logo লাখাই মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীকে এমপি জি কে গউছের পত্র Logo সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত Logo মাধবপুরে নেশাগ্রস্ত যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা

মিরপুরে মহিলা কলেজের সামনে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ৬নং মিরপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইজ্জতনগর এলাকায় মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০০ একর কৃষিজমি গত তিন বছর ধরে অনাবাদি পড়ে আছে। কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও সরকারি অফিস। প্রতিদিন শত শত মানুষের চলাচল থাকলেও এখানে নেই কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে রাস্তাঘাটে জমে থাকা পচা পানি ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়।

বিশেষ করে, মিরপুর চৌমুহনী এলাকার একটি বহুতল ভবনের শতাধিক ভাড়াটিয়া প্রতিদিন পলিথিনে ভরা বর্জ্য আশপাশের একমাত্র ড্রেনে ফেলছেন। এতে ড্রেনটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে এলাকাজুড়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

ময়লার স্তূপে কুকুর, শূকর, কাকসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। দুর্গন্ধে পথচারীরা নাক চেপে চলাচল করছেন। বর্ষাকালে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে খোলা স্থানে ময়লা ফেলার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারছে না।

স্থানীয় এক ভাড়াটিয়া শিক্ষক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে ঘরে বসে খাওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।”

আরেক বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, “ময়লার কারণে সারাবছর মশা-মাছির উপদ্রব থাকে। বর্ষাকালে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনেও ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ময়লার ভাগাড় অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার এবং টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

চান্দিনায় দুর্নীতি রোধে মাঠে এনসিপি, ইউনিয়ন পর্যায়ে হঠাৎ মনিটরিং

error:

মিরপুরে মহিলা কলেজের সামনে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট সময় ০৯:১২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ৬নং মিরপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইজ্জতনগর এলাকায় মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০০ একর কৃষিজমি গত তিন বছর ধরে অনাবাদি পড়ে আছে। কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও সরকারি অফিস। প্রতিদিন শত শত মানুষের চলাচল থাকলেও এখানে নেই কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে রাস্তাঘাটে জমে থাকা পচা পানি ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়।

বিশেষ করে, মিরপুর চৌমুহনী এলাকার একটি বহুতল ভবনের শতাধিক ভাড়াটিয়া প্রতিদিন পলিথিনে ভরা বর্জ্য আশপাশের একমাত্র ড্রেনে ফেলছেন। এতে ড্রেনটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে এলাকাজুড়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

ময়লার স্তূপে কুকুর, শূকর, কাকসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। দুর্গন্ধে পথচারীরা নাক চেপে চলাচল করছেন। বর্ষাকালে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে খোলা স্থানে ময়লা ফেলার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারছে না।

স্থানীয় এক ভাড়াটিয়া শিক্ষক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে ঘরে বসে খাওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।”

আরেক বাসিন্দা সিরাজ মিয়া জানান, “ময়লার কারণে সারাবছর মশা-মাছির উপদ্রব থাকে। বর্ষাকালে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনেও ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ময়লার ভাগাড় অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার এবং টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।