ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যকে জয়ধর হিরুর অভিনন্দন Logo সাংবাদিকতার যোগ্যতা নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা Logo সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ‘স্কুল মিল’ চালুর উদ্যোগ Logo দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর Logo এনসিপি নেতার মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ নেতাকর্মীর জামিন Logo মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা Logo দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহনে নাশকতার আশঙ্কা, কড়া সতর্কতা Logo নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির Logo ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আদাঐর ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে

লাখাইয়ের করাবে টিসিবি পণ্য বিতরণে চরম অব্যবস্থা

লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। ২৭ নভেম্বর সকালে বিতরণ শুরু হলেও দিনশেষে ১৪২ জন কার্ডধারী অভিযোগ করেছেন যে তারা বরাদ্দকৃত পণ্য পাননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুবিধাভোগী মানুষ এবং ডিলারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে করাব ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির পণ্য বিতরণ শুরু হয়। নারী-পুরুষ সকল কার্ডধারী সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেলের দিকে হতাশ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নন্দ ট্রেডার্সের টিসিবি ডিলার পিন্টু রায় ঘোষণা করেন যে তাদের গোডাউনে পণ্য শেষ হয়ে গেছে এবং ১৪২ জন কার্ডধারী মাল পাননি। এতে ক্ষুব্ধ জনতা তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।

ডিলার পিন্টু রায় জানান, তিনি মোট ৬৯৮টি পণ্য পেয়েছেন এবং সেগুলোই বিতরণ করেছেন। নতুন কার্ডের জন্য কোনো পণ্য পাননি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সুবিধাভোগীদের অভিযোগ ভিন্ন—তাদের দাবি, বাস্তবে নতুন কার্ডধারীরা পণ্য পেলেও পুরাতন কার্ডধারীরা অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। তাহলে এই ১৪২ জনের পণ্য গেল কোথায়—এ প্রশ্ন এখন এলাকাজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়নে ৬৯৮টি পণ্যই এসেছিল এবং সেগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। তবে ১৪২ জন সুবিধাভোগীর পণ্য না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও বিতরণের সংখ্যার মধ্যে এমন অসঙ্গতি অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাস জানান, “বিষয়টি আমি দেখছি।”
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বঞ্চিত ১৪২ কার্ডধারীকে তাদের প্রাপ্য পণ্য নিশ্চিত করাও প্রশাসনের জরুরি দায়িত্ব।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যকে জয়ধর হিরুর অভিনন্দন

error:

লাখাইয়ের করাবে টিসিবি পণ্য বিতরণে চরম অব্যবস্থা

আপডেট সময় ১০:৫৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। ২৭ নভেম্বর সকালে বিতরণ শুরু হলেও দিনশেষে ১৪২ জন কার্ডধারী অভিযোগ করেছেন যে তারা বরাদ্দকৃত পণ্য পাননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুবিধাভোগী মানুষ এবং ডিলারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে করাব ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির পণ্য বিতরণ শুরু হয়। নারী-পুরুষ সকল কার্ডধারী সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেলের দিকে হতাশ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নন্দ ট্রেডার্সের টিসিবি ডিলার পিন্টু রায় ঘোষণা করেন যে তাদের গোডাউনে পণ্য শেষ হয়ে গেছে এবং ১৪২ জন কার্ডধারী মাল পাননি। এতে ক্ষুব্ধ জনতা তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।

ডিলার পিন্টু রায় জানান, তিনি মোট ৬৯৮টি পণ্য পেয়েছেন এবং সেগুলোই বিতরণ করেছেন। নতুন কার্ডের জন্য কোনো পণ্য পাননি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সুবিধাভোগীদের অভিযোগ ভিন্ন—তাদের দাবি, বাস্তবে নতুন কার্ডধারীরা পণ্য পেলেও পুরাতন কার্ডধারীরা অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। তাহলে এই ১৪২ জনের পণ্য গেল কোথায়—এ প্রশ্ন এখন এলাকাজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়নে ৬৯৮টি পণ্যই এসেছিল এবং সেগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। তবে ১৪২ জন সুবিধাভোগীর পণ্য না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও বিতরণের সংখ্যার মধ্যে এমন অসঙ্গতি অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাস জানান, “বিষয়টি আমি দেখছি।”
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বঞ্চিত ১৪২ কার্ডধারীকে তাদের প্রাপ্য পণ্য নিশ্চিত করাও প্রশাসনের জরুরি দায়িত্ব।