
বাংলার খবর ডেস্ক:
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষক-কর্মচারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন—এ তথ্য তুলে ধরে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের স্বার্থে তাদের প্রচারে যাওয়ার সুযোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৬৪ জেলার ডিসি ও আট বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের এক জেলা প্রশাসক সভায় জানান—এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন ও ভাতার বেশিরভাগই সরকার বহন করে। জাতীয় নির্বাচনে তারা প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এমন অবস্থানে থেকে কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারি কর্মচারীদের মতো পৃথক আচরণবিধি করার প্রস্তাবও আলোচনায় ওঠে। ২০২৩ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে বলা হয়—এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেওয়ায় পাঠদানে অনীহা ও দায়সারা আচরণের প্রবণতা বাড়ছে। বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা, সাংবাদিকতা বা অন্যান্য পেশায় জড়িত থাকার প্রবণতাও কমবে।
বৈঠকে দুজন ডিসি ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন আচরণবিধিতে নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করার প্রস্তাব করেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক প্রচার বিষয়ে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পরীক্ষা করা হবে। না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওয়াজের অনুমতি দেওয়ার সময় রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিদ্ধ করার শর্ত যুক্ত করার কথা বলা হবে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন—“এবারের নির্বাচন শুধু পাঁচ বছরের সরকার গঠনের নির্বাচন নয়; গণভোট যুক্ত হওয়ায় এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বহু বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারী ভোটার এবার ভোটকেন্দ্রে যাবেন। জাতির নবজন্মের মুহূর্তে ডিসিদের ভূমিকা হবে ধাত্রীর মতো—এ নির্বাচনে কোনোভাবেই ব্যর্থতার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন—“এই নির্বাচন গণঅভ্যুত্থানের পূর্ণতা দেওয়ার নির্বাচন। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ রাখতেই প্রশাসনের ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলার খবর ডেস্ক : 























