ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, সরগরম রাজনৈতিক মাঠ Logo ঢাকার হাজারীবাগে নামাজ পড়তে বের হয়ে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ শিশু আবদুল্লাহ Logo বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আবদাল সভাপতি, শাহাজাহান সাধারণ সম্পাদক Logo বিজয়নগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হবে দুই মাসে Logo চুনারুঘাটের নালুয়া চা বাগান থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে রাতেও তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা Logo নাসিরনগরে ১০ শয্যা হাসপাতালে একজন নিরাপত্তা প্রহরীই ডাক্তার Logo ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার Logo প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন: এমপি ফয়সল

মাধবপুরে ধানে নতুন বিপ্লব—‘ব্রি ধান-১০৩’, উচ্চ ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বাংলার খবর ডেস্ক:

দেশের কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে, অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। এই বাস্তবতায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে নতুন উচ্চফলনশীল ধান ‘ব্রি ধান-১০৩’। স্বল্প জমিতে অধিক ফলনের কারণে ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই জাতটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে ব্রি’র নাগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শতাধিক কৃষকের ১০০ একর জমিতে ব্রি ধান-১০৩ কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত কৃষক, কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আকতারুজ্জামান। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন বাড়াতে হলে আমাদের উচ্চফলনশীল জাতের দিকে যেতে হবে। ব্রি ধান-১০৩ এমন একটি জাত, যা মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল দেয়। ফলে একই জমিতে বছরে তিন ফসল ফলানো সম্ভব, যা কৃষি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”

নাগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন,
“ব্রি ধান-১০৩ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধী। একরপ্রতি এর গড় ফলন ৭ টনেরও বেশি, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এর চাল ঝরঝরে, সাদা ও বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়।”

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন,
“আমাদের এলাকায় কৃষকরা ব্রি ধান-১০৩ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এর ফলন দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। সরকার যদি এই জাতটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করে, ধান উৎপাদনে নতুন বিপ্লব ঘটবে।”

স্থানীয় কৃষক বদু মিয়া বলেন,
“আগের জাতের ধানে যেখানে একরপ্রতি ২৫–৩০ মণ ফলন পেতাম, এখন ব্রি ধান-১০৩ এ ৪০ মণেরও বেশি পাচ্ছি। খরচ কম, ধানও ভালো মানের—এমন ফলনে আমরা খুব খুশি।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাহানা পারভীন। তিনি বলেন,
“ব্রি ধান-১০৩ হলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সফল জাত। এটি খরা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূল পরিবেশেও ভালো ফলন দেয়। ভবিষ্যতে এই জাতের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করা হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, সরগরম রাজনৈতিক মাঠ

error:

মাধবপুরে ধানে নতুন বিপ্লব—‘ব্রি ধান-১০৩’, উচ্চ ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় ০৫:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:

দেশের কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে, অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। এই বাস্তবতায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে নতুন উচ্চফলনশীল ধান ‘ব্রি ধান-১০৩’। স্বল্প জমিতে অধিক ফলনের কারণে ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই জাতটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে ব্রি’র নাগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শতাধিক কৃষকের ১০০ একর জমিতে ব্রি ধান-১০৩ কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত কৃষক, কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আকতারুজ্জামান। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন বাড়াতে হলে আমাদের উচ্চফলনশীল জাতের দিকে যেতে হবে। ব্রি ধান-১০৩ এমন একটি জাত, যা মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল দেয়। ফলে একই জমিতে বছরে তিন ফসল ফলানো সম্ভব, যা কৃষি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”

নাগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন,
“ব্রি ধান-১০৩ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধী। একরপ্রতি এর গড় ফলন ৭ টনেরও বেশি, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এর চাল ঝরঝরে, সাদা ও বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়।”

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন,
“আমাদের এলাকায় কৃষকরা ব্রি ধান-১০৩ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এর ফলন দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। সরকার যদি এই জাতটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করে, ধান উৎপাদনে নতুন বিপ্লব ঘটবে।”

স্থানীয় কৃষক বদু মিয়া বলেন,
“আগের জাতের ধানে যেখানে একরপ্রতি ২৫–৩০ মণ ফলন পেতাম, এখন ব্রি ধান-১০৩ এ ৪০ মণেরও বেশি পাচ্ছি। খরচ কম, ধানও ভালো মানের—এমন ফলনে আমরা খুব খুশি।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাহানা পারভীন। তিনি বলেন,
“ব্রি ধান-১০৩ হলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সফল জাত। এটি খরা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূল পরিবেশেও ভালো ফলন দেয়। ভবিষ্যতে এই জাতের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করা হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।”