ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় Logo নবীগঞ্জে মুফতি আব্দুল কাইয়ুমকে সম্মাননা স্মারক প্রদান Logo লাখাইয়ে ইয়াবা বিক্রিতে বাধা, প্রতিবন্ধী যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতিয়ার মিয়া Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর হামলা, কয়েকটি বাড়ির মালামালে আগুন Logo হাইমচরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসনের উদ্বোধন Logo হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুকের আয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অসহায় রাশিদার নতুন ঘর নির্মাণ করলেন শান্ত শাহ Logo লাখাই থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শরীফ আহমেদ Logo দোয়ারাবাজারে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন

মাধবপুরে ধানে নতুন বিপ্লব—‘ব্রি ধান-১০৩’, উচ্চ ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বাংলার খবর ডেস্ক:

দেশের কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে, অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। এই বাস্তবতায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে নতুন উচ্চফলনশীল ধান ‘ব্রি ধান-১০৩’। স্বল্প জমিতে অধিক ফলনের কারণে ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই জাতটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে ব্রি’র নাগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শতাধিক কৃষকের ১০০ একর জমিতে ব্রি ধান-১০৩ কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত কৃষক, কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আকতারুজ্জামান। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন বাড়াতে হলে আমাদের উচ্চফলনশীল জাতের দিকে যেতে হবে। ব্রি ধান-১০৩ এমন একটি জাত, যা মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল দেয়। ফলে একই জমিতে বছরে তিন ফসল ফলানো সম্ভব, যা কৃষি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”

নাগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন,
“ব্রি ধান-১০৩ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধী। একরপ্রতি এর গড় ফলন ৭ টনেরও বেশি, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এর চাল ঝরঝরে, সাদা ও বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়।”

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন,
“আমাদের এলাকায় কৃষকরা ব্রি ধান-১০৩ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এর ফলন দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। সরকার যদি এই জাতটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করে, ধান উৎপাদনে নতুন বিপ্লব ঘটবে।”

স্থানীয় কৃষক বদু মিয়া বলেন,
“আগের জাতের ধানে যেখানে একরপ্রতি ২৫–৩০ মণ ফলন পেতাম, এখন ব্রি ধান-১০৩ এ ৪০ মণেরও বেশি পাচ্ছি। খরচ কম, ধানও ভালো মানের—এমন ফলনে আমরা খুব খুশি।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাহানা পারভীন। তিনি বলেন,
“ব্রি ধান-১০৩ হলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সফল জাত। এটি খরা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূল পরিবেশেও ভালো ফলন দেয়। ভবিষ্যতে এই জাতের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করা হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয়

error:

মাধবপুরে ধানে নতুন বিপ্লব—‘ব্রি ধান-১০৩’, উচ্চ ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় ০৫:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:

দেশের কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে, অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। এই বাস্তবতায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে নতুন উচ্চফলনশীল ধান ‘ব্রি ধান-১০৩’। স্বল্প জমিতে অধিক ফলনের কারণে ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই জাতটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে ব্রি’র নাগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শতাধিক কৃষকের ১০০ একর জমিতে ব্রি ধান-১০৩ কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত কৃষক, কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আকতারুজ্জামান। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন বাড়াতে হলে আমাদের উচ্চফলনশীল জাতের দিকে যেতে হবে। ব্রি ধান-১০৩ এমন একটি জাত, যা মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল দেয়। ফলে একই জমিতে বছরে তিন ফসল ফলানো সম্ভব, যা কৃষি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”

নাগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন,
“ব্রি ধান-১০৩ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধী। একরপ্রতি এর গড় ফলন ৭ টনেরও বেশি, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এর চাল ঝরঝরে, সাদা ও বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়।”

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন,
“আমাদের এলাকায় কৃষকরা ব্রি ধান-১০৩ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এর ফলন দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। সরকার যদি এই জাতটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করে, ধান উৎপাদনে নতুন বিপ্লব ঘটবে।”

স্থানীয় কৃষক বদু মিয়া বলেন,
“আগের জাতের ধানে যেখানে একরপ্রতি ২৫–৩০ মণ ফলন পেতাম, এখন ব্রি ধান-১০৩ এ ৪০ মণেরও বেশি পাচ্ছি। খরচ কম, ধানও ভালো মানের—এমন ফলনে আমরা খুব খুশি।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাহানা পারভীন। তিনি বলেন,
“ব্রি ধান-১০৩ হলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সফল জাত। এটি খরা ও অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূল পরিবেশেও ভালো ফলন দেয়। ভবিষ্যতে এই জাতের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করা হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।”