
বাংলার খবর ডেস্ক: রাস্তায় অনেক অসহায় মানুষ আছেন যাদের শরীরে ময়লা, পোশাক নোংরা, চুল-দাড়ি-নখ বড় হয়ে যায় এবং তাদের থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এসব মানুষকে গোসল করানো, চুল-নখ কেটে পরিষ্কার করা এবং নতুন পোশাক পরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ সমাজে সবসময় প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশেও অনেক তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই কাজে এগিয়ে এসেছে। তাদের এই মানবিক কার্যক্রম নিঃসন্দেহে সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ভিডিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মানবসেবার নামে কখনো কখনো ব্যবহার হচ্ছে উগ্র ভাষা এবং জোর-জবরদস্তি। বিশেষ করে বাউল, ফকির বা পীর-দরবেশদের জটা জোর করে কেটে দেওয়া বা তাদের পোশাক বদলে দেওয়ার ঘটনাগুলো প্রশ্ন তুলছে—এটি কি আসলেই সেবা, নাকি তাদের বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ?
বাউল-ফকিরদের কাছে জটা, গেরুয়া পোশাক বা ছেঁড়া বস্ত্র কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়; এগুলো তাদের দর্শন, সাধনা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সমাজের চোখে হয়তো তা অপরিচ্ছন্ন মনে হতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে এটি ত্যাগ ও সাধনার অংশ। জোর করে এই চিহ্নগুলো মুছে দেওয়ার চেষ্টা তাদের বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে।
মানসিকভাবে অসুস্থ ও অসহায় মানুষদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা চিকিৎসা বা সহায়তার অংশ হতে পারে। কিন্তু কারো ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা বা ধর্মীয় জীবনধারায় হস্তক্ষেপ করে তাকে ‘স্বাভাবিক’ বানানোর প্রয়াস প্রকৃত সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেবা তখনই সঠিক হয়, যখন তা অনুমতি, সম্মান ও সহানুভূতির সঙ্গে দেওয়া হয়।
সুতরাং, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর দায়িত্ব হলো মানবিক কাজের পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়কেও মর্যাদা দেওয়া। সেবার লক্ষ্য হওয়া উচিত কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়া, কারো জীবনধারা বদলে দেওয়া নয়। নতুবা সেবার মহৎ উদ্দেশ্য উগ্রতা ও অহংকারের কারণে কলুষিত হয়ে যাবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 


























