ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম Logo মজুরি দাবিতে পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মালিকপক্ষের দাবি অর্থসংকট Logo হবিগঞ্জে শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামাতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo হাইমচরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, শতাধিক শিক্ষার্থীকে সচেতনতা Logo মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, চোটে নেই মুশফিক Logo মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গলে বিজিবির অভিযান, দেড় লাখ টাকার মাদক ও পণ্য জব্দ Logo ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

কুরবানি সামনে রেখে লাখাইয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের

কোরবানির ঈদ এলেই টিং টাং টং শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকার কামার পাড়াগুলোতে। বেড়ে যায় কারিগরদের ব্যস্ততা।

হাতুড়ি পেটার শব্দে মুখর লাখাই উপজেলা বিভিন্ন বাজারের কামারপাড়ায়।সারাদিন তপ্ত ইস্পাত গলিয়ে চলছে পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটিসহ নানাবিধ সরঞ্জাম তৈরির কাজ। দম ফেলারও সময় নেই কামারদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন তারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন।

কামারপাড়ায় এখন গেলেই শোনা যায় হাতুড়ি পেটানোর শব্দ। কেউ ভারি হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরঙা লোহা। কেউ পুরনো দা-ছুরিতে শাণ দিচ্ছেন। কেউ আবার কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। বুল্লা বাজারের বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায় দা, ছুরি, চাকু ও বঁটির বেচাকেনা বেড়েছে। দামও সন্তোষজনক।

তবে কামারপাড়ার কারিগররা অভিযোগ করেন, তাদের পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি অনেক কম। সারাদিন আগুনের পাশে বসে থাকতে হয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা শরীরে তৈরি হয়। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে উপজেলাতে কমে যাচ্ছে কামার সম্প্রদায়। বাধ্য হয়ে পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করছেন অনেকে।

উপজেলার কামাররা বলেন, সারা বছর আমাদের মোটামুটি বিক্রি হয়। তবে কোরবানির সময় বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় লাভ আগের চেয়ে কম।উপজেলার কামার কৃষ্ণ কর্মকার জানান, কোরবানি ঈদে তারা প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরি করেন। বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।

এছাড়া আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব পণ্য তৈরির বেশকিছু প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় কামার সম্প্রদায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। তাদের প্রত্যাশা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।বুল্লা বাজারের কামার নিতিন্দ্র দেব বলেন, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি।

কোরবানির ঈদের আগে বেচাকেনা ভালো হয়।কয়েকজন ক্রেতা জানান, কুরবানি ঈদের বেশ কিছুদিন বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, বঁটির দাম স্বাভাবিক বলে জানান তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

error:

কুরবানি সামনে রেখে লাখাইয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

কোরবানির ঈদ এলেই টিং টাং টং শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকার কামার পাড়াগুলোতে। বেড়ে যায় কারিগরদের ব্যস্ততা।

হাতুড়ি পেটার শব্দে মুখর লাখাই উপজেলা বিভিন্ন বাজারের কামারপাড়ায়।সারাদিন তপ্ত ইস্পাত গলিয়ে চলছে পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটিসহ নানাবিধ সরঞ্জাম তৈরির কাজ। দম ফেলারও সময় নেই কামারদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন তারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন।

কামারপাড়ায় এখন গেলেই শোনা যায় হাতুড়ি পেটানোর শব্দ। কেউ ভারি হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরঙা লোহা। কেউ পুরনো দা-ছুরিতে শাণ দিচ্ছেন। কেউ আবার কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। বুল্লা বাজারের বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায় দা, ছুরি, চাকু ও বঁটির বেচাকেনা বেড়েছে। দামও সন্তোষজনক।

তবে কামারপাড়ার কারিগররা অভিযোগ করেন, তাদের পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি অনেক কম। সারাদিন আগুনের পাশে বসে থাকতে হয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা শরীরে তৈরি হয়। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে উপজেলাতে কমে যাচ্ছে কামার সম্প্রদায়। বাধ্য হয়ে পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করছেন অনেকে।

উপজেলার কামাররা বলেন, সারা বছর আমাদের মোটামুটি বিক্রি হয়। তবে কোরবানির সময় বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় লাভ আগের চেয়ে কম।উপজেলার কামার কৃষ্ণ কর্মকার জানান, কোরবানি ঈদে তারা প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরি করেন। বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।

এছাড়া আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব পণ্য তৈরির বেশকিছু প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় কামার সম্প্রদায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। তাদের প্রত্যাশা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।বুল্লা বাজারের কামার নিতিন্দ্র দেব বলেন, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি।

কোরবানির ঈদের আগে বেচাকেনা ভালো হয়।কয়েকজন ক্রেতা জানান, কুরবানি ঈদের বেশ কিছুদিন বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, বঁটির দাম স্বাভাবিক বলে জানান তারা।