
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এ জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম ব্যক্তি হতে যাচ্ছেন তিনি।
৪২ বছর বয়সী এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা।
প্রাথমিক ভোট গণনায় এল-সায়েদ এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে এপি তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এপি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোটের প্রায় ৭১ শতাংশ গণনা শেষে এল-সায়েদ পেয়েছেন ৫২ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ ভোট। ফলে প্রাথমিকভাবে প্রচারিত ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ বনাম ৪৪ শতাংশের হিসাবটি সর্বশেষ ফলের সঙ্গে মেলে না।
নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন এল-সায়েদ। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পক্ষে প্রচার চালান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টি ও ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই প্রার্থীর বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আরব ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এসব নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নির্বাচনের আগে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিল রিপাবলিকানদের হাতে। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে এপি জানিয়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















