ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য, সার্বিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র Logo জামালপুরে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য, টানা দুই বছর ফেল সবাই Logo হাইমচর সরকারি কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ Logo চাকরিচ্যুতি ও বকেয়া বেতন নিয়ে জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে অভিযোগ Logo হাইমচরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিলেন এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক Logo লাখাইয়ে তৃতীয় স্ত্রীর মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হুমায়ূন গ্রেফতার Logo লাখাইয়ে সার বিক্রিতে অনিয়ম, বিএডিসি ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা Logo এক ওভারে ৬ ছক্কা, টানা ৭ বলে ৭ ছক্কা মেরেও হারল বাংলাদেশ Logo মাধবপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo মাধবপুরে গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমার চুরি, সেচ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য, সার্বিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার মাত্র দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছর (২০২৫) প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিল মাত্র একজন।

অন্যদিকে, উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ থেকে ৩৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৪৬ জন। মনতৈল মডেল কলেজ থেকে ২২ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র তিনজন। ভবানীপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে দুজন।

তবে সাধারণ কলেজগুলোর তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার জিরুন্ডা মানপুর তোফালিয়া ফাজিল মাদ্রাসা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪ জন।

ফলাফলের বিষয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, কলেজ শাখায় ভর্তি হলেও ওই দুই ছাত্রী নিয়মিত ক্লাসে আসত না। তাঁদের একজনের বিয়ে হয়ে গেছে, অন্যজনও অনুপস্থিত ছিল। এ ছাড়া কলেজ শাখার পাঠদান হাইস্কুলের শিক্ষকদের দিয়ে পরিচালনা করা হতো বলেও জানান তিনি।

এলাকার সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত তদারকির অভাব ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকটের কারণে উপজেলার অধিকাংশ কলেজে এমন ফলাফল হয়েছে। বিশেষ করে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য, সার্বিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র

error:

লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য, সার্বিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র

আপডেট সময় ১০:১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার মাত্র দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছর (২০২৫) প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিল মাত্র একজন।

অন্যদিকে, উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ থেকে ৩৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৪৬ জন। মনতৈল মডেল কলেজ থেকে ২২ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র তিনজন। ভবানীপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে দুজন।

তবে সাধারণ কলেজগুলোর তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার জিরুন্ডা মানপুর তোফালিয়া ফাজিল মাদ্রাসা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪ জন।

ফলাফলের বিষয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, কলেজ শাখায় ভর্তি হলেও ওই দুই ছাত্রী নিয়মিত ক্লাসে আসত না। তাঁদের একজনের বিয়ে হয়ে গেছে, অন্যজনও অনুপস্থিত ছিল। এ ছাড়া কলেজ শাখার পাঠদান হাইস্কুলের শিক্ষকদের দিয়ে পরিচালনা করা হতো বলেও জানান তিনি।

এলাকার সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত তদারকির অভাব ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকটের কারণে উপজেলার অধিকাংশ কলেজে এমন ফলাফল হয়েছে। বিশেষ করে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।