
বাংলার খবর ডেস্ক:
মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে আগে পুলিশকে নিজেদের ভেতর শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে।
রোববার সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ত পুলিশিং জোরদার এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, পুলিশকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশকে শক্তিশালী করা না গেলে সমাজে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে আলী হোসেন ফকির বলেন, দেশের উন্নয়নের পথে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার নতুন করে বেকারত্বের তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “গত দুই মাসে আমি মাদকের কারণে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি। আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।”
মাদকের বিস্তার নিয়ে অতীতের সরকারের সমালোচনা করে আইজিপি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। এসব মাদক নির্মূলে পুলিশ ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। অপরাধ দমনে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেশে পুলিশের জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে আইজিপি জানান, বর্তমানে দেশে পুলিশের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার। চলতি বছর ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একসঙ্গে এত সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। এ জন্য নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন।
সমাবেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, অপরাধ প্রতিরোধে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধের তথ্য আদান-প্রদান, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাবেশে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















