
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ধানের সমারোহ দেখে বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লাখাইয়ে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ২০০ হেক্টর। তবে সময়মতো বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিও চাষের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে মোট ৮ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে।
আবাদ হওয়া জমির মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান ৩৭৫ হেক্টর, উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ৭ হাজার ৬৭৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৮৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বিআর-২২, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-১০৩, বিনা-৭ ও বিনা-১৭ জাতের ধানের আবাদ তুলনামূলক বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।
উপজেলার করাব, মুড়িয়াউক, বামৈ ও মোড়াকরি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে সবুজ ধানের সমারোহ। আগাম জাতের কিছু জমিতে ইতিমধ্যে ধানের শীষ বের হয়েছে। আবার অনেক জমিতে ধানের থোড় এসেছে। মাঠের এমন চিত্রে কৃষকদের মধ্যে ভালো ফলনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
মাঠে কর্মরত কৃষকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জমিতে বড় ধরনের রোগবালাইয়ের আক্রমণও দেখা যায়নি। যেসব জমিতে সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা খুব বেশি নয়। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে এবার ধানের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও যথাসময়ে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় এ বছর রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফলনও অত্যন্ত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে লাখাই উপজেলা কৃষি উৎপাদনে একটি সম্ভাবনাময় ও সফল উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















