
বাংলার খবর ডেস্ক
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন। জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। পরে সেপ্টেম্বরে এনডিটিভিকেও একই সময়সীমার কথা জানান।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত এক মাসে সারা দেশে ৫৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ছয় দিনেই গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। গ্রেপ্তারদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন খান জ্যোতি, পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা, তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুল তালুকদার এবং সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ধুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম ভোলার নাম রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা নির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার ব্যাখ্যা নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। একাংশ মনে করছেন, এটি দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। অন্য অংশের মতে, ভারত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য কোনো রাজনৈতিক বা আইনি সমঝোতার প্রেক্ষাপটেও ফেরার বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে। এসব ব্যাখ্যা এখনো বিশ্লেষণ ও মতামতের পর্যায়ে রয়েছে।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল যুগান্তরকে বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে শুধু মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি দেশে ফেরার বিষয়টিও এতে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা হঠাৎ মাঠে সক্রিয় হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার হলেও বন্দির সংখ্যা এক লাখের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের তথ্যেও ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি ছিল।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক যুগান্তরকে বলেন, সমঝোতা ছাড়া শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু গণগ্রেপ্তার বা পুলিশি শক্তি দিয়ে তা মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে। তার মতে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূল উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনা এবং একই সঙ্গে কারাগারের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মগোপনে থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। ডিসেম্বরের আগেই তাদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট ঠেকাতে সাইবার পুলিশ ইউনিট নজরদারি করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশও রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিভিন্ন অভিযানে ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনজীবন অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামও যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
















