
শেখ ইমন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার তিতাস নদীতে ঐতিহ্যবাহী হরিপুর নৌকা বাইচকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এবং আর্টিন ফার্নিচার প্রেজেন্টসের সৌজন্যে আয়োজিত এ নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এ আয়োজন।
নৌকা বাইচ সামনে রেখে প্রতিযোগিতাস্থল ও আশপাশের এলাকায় চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নদীর তীর ও মাঠ প্রস্তুতসহ নানা কার্যক্রম। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নৌকা প্রস্তুত করছেন প্রতিযোগীরা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাঝি-মাল্লারাও। প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে নৌকাগুলোর মেরামত, রং ও সাজসজ্জার কাজ চলছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের নৌকা বাইচে বিভিন্ন এলাকার একাধিক নৌকা অংশ নেবে। প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের চলাচল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, হরিপুর রাজবাড়ি, তিতাস নদী, হরিণবেড়সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা ঘিরে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুমে গ্রামবাংলার বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো। সময়ের পরিবর্তনে এ ধরনের আয়োজন অনেকটাই কমে গেলেও হরিপুরের নৌকা বাইচ এখনও মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এ আয়োজন বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি করে।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে হরিপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাড়তি বেচাকেনার প্রত্যাশা করছেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যেও নৌকা বাইচ দেখার ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, সুষ্ঠু, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকা বাইচ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংগঠনের সহ সভাপতি উসমান আহমেদ জানান,ঐতিহ্যবাহী হরিপুর নৌকা বাইচ এবারও প্রাণবন্ত ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















